Telegram Group Join Now
WhatsApp Group Join Now

 


নোঙর (কবিতা) অজিত দত্ত - নবম শ্রেণীর বাংলা প্রশ্ন ও উত্তর - নবম শ্রেণীর বাংলা প্রশ্ন ও উত্তর | WBBSE Class 9th Bengali Nongor Question and Answer

নোঙর (কবিতা) অজিত দত্ত - নবম শ্রেণীর বাংলা প্রশ্ন ও উত্তর - নবম শ্রেণীর বাংলা প্রশ্ন ও উত্তর | WBBSE Class 9th Bengali Nongor Question and Answer : WBBSE Class 9th Bengali Nongor Question and Answer | West Bengal Class 9th Bengali Nongor Suggestion | নবম শ্রেণীর বাংলা নোঙর (কবিতা) অজিত দত্ত - নবম শ্রেণীর বাংলা প্রশ্ন ও উত্তর (West Bengal Class 9th Bengali Nongor Question and Answer) নীচে দেওয়া হলো। এই পশ্চিমবঙ্গ নবম শ্রেণীর বাংলা সাজেশন এর নোঙর (কবিতা) অজিত দত্ত - নবম শ্রেণীর বাংলা প্রশ্ন ও উত্তর প্রশ্নগুলি খুবই গুরুত্বপূর্ণ।

রাজ্য

পশ্চিমবঙ্গ

বোর্ড

পশ্চিমবঙ্গ মধ্য শিক্ষা পর্ষদ

ক্লাস

নবম শ্রেণী

বিষয়

বাংলা

অধ্যায়

নোঙর (কবিতা) অজিত দত্ত - নবম শ্রেণীর বাংলা প্রশ্ন ও উত্তর

নোঙর (কবিতা) অজিত দত্ত - নবম শ্রেণীর নবম শ্রেণীর বাংলা প্রশ্ন ও উত্তর | West Bengal Class 9th Bengali Nongor Question and Answer 

MCQ | নোঙর (কবিতা) অজিত দত্ত - নবম শ্রেণীর বাংলা প্রশ্ন ও উত্তর | Class 9 Bengali Nongor Question and Answer :

১. তরী ভরা পণ্য' শব্দবন্ধটি প্রতীকায়িত করে— 

(A) ধনসম্পদকে 

(B) সওদাগরি নৌকাকে 

(C) জীবনের সঞ্চয়কে 

(D) বাণিজ্যিক মনোভাবকে

উত্তরঃ (C) জীবনের সঞ্চয়কে।

. দাঁড় টানার মূল কারণ হল

(A) নৌকাকে স্থির রাখা 

(B) নৌকাকে ভাসিয়ে রাখা 

(C) নৌকার অগ্রগমন অব্যাহত রাখা

(D) নৌকার দিক পরিবর্তন করা

উত্তরঃ (C) নৌকার অগ্রগমন অব্যাহত রাখা।

৩. 'নোঙর কখন জানি পড়ে গেছে তটের কিনারে। এখানে নোঙর পড়ে গেছে কথকের —

(A) ঘুমের সময় 

(B) জ্ঞাতে 

(C) অজ্ঞাতে

(D) মধ্যরাতে

উত্তরঃ (C) অজ্ঞাতে।

৪. ‘নোঙর' কবিতাটিতে নোঙর হল —

(A) লোহার তৈরি যন্ত্র মাত্র

(B) নৌকার অবিচ্ছেদ্য অংশ

(C) কথকের প্রিয় বিষয় 

(D) মানবজীবনের অলঙ্ঘ্য বন্ধনের প্রতিভূ

উত্তরঃ (D) মানবজীবনের অলঙ্ঘ্য বন্ধনের প্রতিভূ।

৫. “সারারাত তবু দাঁড় টানি” —এ খানে 'সারারাত'এর অর্থ —

(A) দিনরাত 

(B) সন্ধে থেকে ভোর

(C) মধ্যরাত 

(D) সমগ্র জীবন

উত্তরঃ (D) সমগ্র জীবন।

৬. ‘নোঙর’ কবিতাটির রচয়িতা হলেন —

(A) সঞ্চয় ভট্টাচার্য 

(B) অজিত দত্ত 

(C) মানিক বন্দ্যোপাধ্যায় 

(D) অর্ঘকুসুম দত্ত গুপ্ত

উত্তরঃ (B) অজিত দত্ত।

৭. ‘নোঙর’ কবিতাটি যে-কাব্যগ্রন্থ থেকে গৃহীত, তা হল- 

(A) কুসুমের মান

(B) ছায়ার আলপনা

(C) নষ্টচাদ 

(D) শাদা মেঘ কালো পাহাড়

উত্তরঃ (D) শাদা মেঘ কালো পাহাড়।

৮. ‘নোঙর' শব্দের অর্থ কী?

(A) বড়শি আকৃতির লৌহনির্মিত যন্ত্র 

(B) পাল

(C) দাঁড়

(D) কাছি

উত্তরঃ (A) বড়শি আকৃতির লৌহনির্মিত যন্ত্র।

৯. কবি যা পার হচ্ছিলেন, তা হলো

(A) মহাকাশ 

(B) খাল 

(C) সিন্ধু 

(D) বিল 

উত্তরঃ (C) সিন্ধু।

১০. কবির যেখানে পাড়ি দিতে হবে,— 

(A) দূর দেশে

(B) বনাঞ্চলে 

(C) সিন্ধুপারে

(D) পদ্মাপারে

উত্তরঃ (C) সিন্ধুপারে।

১১. কবির নোঙর যেখানে পড়ে গিয়েছে, তা হলো — 

(A) বালিয়াড়িতে 

(B) তটের কিনারে

(C) সমুদ্রের মাঝে

(D) সমুদ্রের গভীরে

উত্তরঃ (B) তটের কিনারে।

১২. কবির তাঁর দাঁড় টানাকে মনে করেছেন— 

(A) বাস্তব 

(B) কঠিন

(C) মিছে

(D) অহেতুক

উত্তরঃ (C) মিছে।

১৩. কথক মিছে দাঁড় টানেন- 

(A) সারাদিন 

(B) সারারাত 

(C) দিনরাত

(D) সারাসকাল

উত্তরঃ (B) সারারাত।

১৪. ‘মিছে দাঁড় টানি’-র অন্তর্নিহিত অর্থ হল — 

(A) দাঁড় টানার ভান 

(B) নিষ্ফল প্রচেষ্টা

(C) স্রোতে দাঁড় টানা

(D) কোনোটিই নয়

উত্তরঃ (B) নিষ্ফল প্রচেষ্টা।

১৫. ঢেউগুলি যেখানে মাথা ঠুকছে — 

(A) তটে 

(B) দাঁড়ে

(C) কাছিতে

(D) তরিতে

উত্তরঃ (D) তরিতে।

১৬. জোয়ারভাটায় যা বাঁধা আছে, তা হলো —

(A) বাণিজ্যতরি

(B) তরি 

(C) তট

(D) মান্ডুল

উত্তরঃ (A) বাণিজ্যতরি।

১৭. “জোয়ার-ভাঁটায় বাঁধা এ-তটের কাছে” – এখানে 'জোয়ার-ভাঁটা' হল —

(A) জীবনের উত্থানপতনের প্রতীক

(B) জলের হ্রাসবৃদ্ধির প্রতীক

(C) সমুদ্রের ঢেউয়ের উচ্ছ্বাস 

(D) কোনোটিই নয়

উত্তরঃ (A) জীবনের উত্থানপতনের প্রতীক।

১৮. আমার বাণিজ্য-তরী বাঁধা পড়ে আছে।'—কোথায় বাঁধা পরে আছে?- 

(A) তটের কাছে

(B) সমুদ্রের কাছে 

(C) নোঙরের কাছে 

(D) নদীর কাছে

উত্তরঃ (A) তটের কাছে।

১৯. 'নোঙরের কাছি বাঁধা তবু এ নৌকা চিরকাল।' — 'কাছি' বলতে বোঝানো হয় — 

(A) ধুতির কাছা 

(B) কচ্ছপ 

(C) কাছাকাছি থাকা 

(D) মোটা দড়ির গুচ্ছ

উত্তরঃ (D) মোটা দড়ির গুচ্ছ।

২০. “ততই বিরামহীন এই দাঁড় টানা।” — এই বিরামহীনতার কারণ কি?

(A) মাঝিদের ছুটি থাকে না

(B) দাঁড় বন্ধ করার উপায় নেই 

(C) পাল টাঙানো যায়নি

(D) বন্ধনমুক্তির অনিঃশেষ আকুতি 

উত্তরঃ (D) বন্ধনমুক্তির অনিঃশেষ আকুতি।

অতি সংক্ষিপ্ত | নোঙর (কবিতা) অজিত দত্ত - নবম শ্রেণীর বাংলা প্রশ্ন ও উত্তর | Class 9 Bengali Nongor Question and Answer :

১. ‘নোঙর’কবিতায় ‘নোঙর’ ও ‘নৌকা’ কীসের প্রতীক? 

উত্তরঃ কবিতাটিতে নৌকা গতিশীল জীবন এবং নোঙর বন্ধন বা আবদ্ধতার প্রতীক।

২. নৌকায় দাঁড় ও পালের কার্যকারিতা কী?

উত্তরঃ পাল বাতাসের গতিকে কাজে লাগিয়ে আর দাঁড় জল কেটে নৌকাকে এগিয়ে নিয়ে চলে।

৩. ‘নোঙর’ কবিতায় কবিতার কথকের কোন মূল মনোভাবটি ফুটে উঠেছে?

উত্তরঃ ‘নোঙর’ কবিতায় গণ্ডিবদ্ধ জীবনের আবদ্ধতার বিপরীতে মুক্তির আকাঙ্ক্ষার আকুতি প্রকাশিত হয়েছে।

৪. ‘নোঙর' কবিতাটি কার লেখা?

উত্তরঃ ‘নোঙর’ কবিতাটি কবি অজিত দত্তের লেখা।

৫. ‘নোঙর’ কবিতাটি কোন্ কাব্যগ্রন্থ থেকে নেওয়া হয়েছে?

উত্তরঃ ‘নোঙর’ কবিতাটি কবি অজিত দত্তের ‘শাদা মেঘ কালো পাহাড়’ নামক কাব্যগ্রন্থ থেকে নেওয়া হয়েছে।

৬. ‘ততই বিরামহীন দাঁড় টানা'—দাঁড় টানা বিরামহীন কেন?

উত্তরঃ নৌকাকে নোঙরের কাছি থেকে মুক্ত করে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার প্রত্যাশায় কথকের দাঁড় টানা বিরামহীন হয়।

৭. কবি কীভাবে সপ্তসিন্ধুপারে পাড়ি দিতে চান?

উত্তরঃ কবি তরিভরা পণ্য নিয়ে সপ্তসিন্ধুপারে পাড়ি দিতে চান।

৮. ‘নোঙর’ শব্দের অর্থ কী?

উত্তরঃ বড়শি আকৃতির লোহার তৈরি যন্ত্র, যা নৌকাকে তটের কিনারে আটকে রাখে, তাকেই নোঙর বলে।

৯. ‘নোঙর’ কবিতায় নোঙর কীসের রূপক?

উত্তরঃ ‘নোঙর’ কবিতায় নোঙর গণ্ডিবদ্ধ জীবনের আবদ্ধতার রূপক।

১০. ‘নোঙর’ কবিতায় কথক কোথায় পাড়ি দিতে চেয়েছেন?

উত্তরঃ নোঙ্গর কবিতায় কথক সুদূর সিন্ধুপারে পাড়ি দিতে চেয়েছেন।

১১. কবি সিন্ধুতীরে পাড়ি দিতে পারছেন না কেন?

উত্তরঃ কবির নোঙ্গর তটের কিনারে পড়ে যাওয়ায় কবি সিন্ধুতীরে পাড়ি দিতে পারছেন না।

১২. কবি সিন্ধুতীরে সিন্ধুতীরে পাড়ি দিতে চান কেন?

উত্তরঃ কবি তার জীবনের সংকীর্ণতাকে ভাঙার জন্য বাণিজ্যতরী নিয়ে সিন্ধুতীরে পাড়ি দিতে চান।

১৩. ‘সারারাত মিছে দাঁড় টানি।—সারারাত মিছে দাঁড় টেনেছেন কেন?

উত্তরঃ তটের কিনারে নৌকার নোঙর পড়ে গিয়েছে, তাই কবি সারারাত মিছে দাঁড় টেনেছেন।

১৪. কবিতার কথক কীভাবে দিকের নিশানা ঠিক করার চেষ্টা করেন?

উত্তরঃ কবিতার কথক আকাশের তারার পানে চেয়ে দিকের নিশানা ঠিক করার চেষ্টা করেন।

১৫. ‘নোঙর’ কবিতায় কীসের বিরাম নেই?

উত্তরঃ নৌকাকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার আশায় দাঁড় টানার বিরাম নেই।

ব্যাখ্যাভিত্তিক | নোঙর (কবিতা) অজিত দত্ত - নবম শ্রেণীর বাংলা প্রশ্ন ও উত্তর | Class 9 Bengali Nongor Question and Answer :

১. “আমার বাণিজ্য-তরী বাঁধা পড়ে আছে।”— কথাটির তাৎপর্য লেখাে।

উত্তরঃ কবি তার রচিত সাহিত্যকীর্তিগুলি নিয়ে ভেসে যেতে চান দূরে- দূরান্তরে। সাতসমুদ্রের পাড়ের সেই সুদূর জগতে কবি মেতে উঠবেন সৃষ্টিশীল কাব্যরচনায়। সংসারের বাঁধন ছিন্ন করে কবি চলে যাবেন কাঙ্ক্ষিত গন্তব্যে। এই আশায় কবি প্রতিদিন বুক বাঁধেন, যেন তিনি নৌকার দাঁড় টেনে গন্তব্যে চলেছেন৷ কিন্তু, পরমুহূর্তেই তার মনে পড়ে যায়, বাস্তব জীবন ও সংসারের দায়িত্ব কর্তব্য ত্যাগ করে তিনি কোনােদিনই গন্তব্যে যেতে পারবেন না । তাই গভীর হতাশার সাথে কবি আলােচ্য উক্তিটি করেছেন।

২. “স্রোতের বিদ্রুপ শুনি প্রতিবার দাঁড়ের নিক্ষেপে” — ‘স্রোতের বিদ্রুপ’ বলতে কবি কী বােঝাতে চেয়েছেন?

উত্তরঃ কবি নৌকা নিয়ে দূর সমুদ্রে পাড়ি দিতে চান। কিন্তু তার সেই নৌকো। তটের কিনারে নােঙরে বাঁধা পড়ে গেছে। কবির মন বাধা অগ্রাহ্য করে দাঁড় টেনে চলে। প্রতিবার দাঁড় টানলে যে শব্দ ওঠে তা যেন স্রোতের ঠাট্টা-উপহাস। স্রোত গতিশীল, কিন্তু কবির জীবনতরি আটকা পড়ে আছে। কবি চাইলেও সাংসারিক বন্ধন ছিন্ন করে সুদূরের আহ্বানে নৌকা ভাসাতে পারছেন না। তাই স্রোত কবির এই থমকে থাকাকে ব্যঙ্গবিদ্রুপে বিদ্ধ করে চলে।

৩. “নােঙর গিয়েছে পড়ে তটের কিনারে।”—মন্তব্যটির তাৎপর্য।

উত্তরঃ কবি সুদূরের পিয়াসি৷ তার মধ্যে একটি চঞ্চল মন আছে, যেটি অজানা-অচেনার উদ্দেশ্যে পাড়ি দিতে চায় দূর সমুদ্রপারে। কিন্তু ব্যক্তিজীবনে তিনি নানা কর্মের বন্ধনে বাঁধা পড়ে আছেন। সংসারের বিভিন্ন দায়িত্ব- কর্তব্যে তার দৈনন্দিন জীবন বাঁধা। কবির রােমান্টিক মন সমস্ত বন্ধন থেকে মুক্তি চায়, ছুটে যেতে চায় স্বপ্ন-কল্পনার মায়াবী জগতে। কিন্তু মন চাইলেও বাস্তবকে উপেক্ষা করে সেখানে যাওয়া সম্ভব নয়।

৪. “সারারাত মিছে দাঁড় টানি”—দাঁড় টানাকে কবি মছে বলেছেন কেন?

উত্তরঃ যে স্বপ্নময় রূপকথার দেশের কল্পনা কবির মনকে প্রতি মুহূর্তে চঞ্চল করে তােলে, বাস্তবে কবির পক্ষে সেখানে পৌঁছােনাে সম্ভব হয় না। তবু কবির সুদূর পিয়াসি মন আশায় বুক বেঁধে সারারাত ধরে কল্পনার জাল বুনে চলে। কিন্তু কবির সচেতন সত্তা জানে, ‘নােঙর গিয়েছে পড়ে তটের কিনারে'। অর্থাৎ জীবনের নৌকা দায়দায়িত্বপূর্ণ কর্মমুখর সংসারে বাঁধা পড়েছে। সে নৌকা আর চলবে না। তাই দাড় টানা বৃথা।

বিশ্লেষণধর্মী ও রচনাধর্মী | নোঙর (কবিতা) অজিত দত্ত - নবম শ্রেণীর বাংলা প্রশ্ন ও উত্তর | Class 9 Bengali Nongor Question and Answer : 

১.নােঙর’ একটি প্রতীকী কবিতা-আলােচনা করাে।

উত্তরঃ প্রতীককে ইংরেজিতে বলে Symbol টিহ। যখন মনের ভাবকে প্রকাশ করে, তখন তাকে বলে প্রতীক।

কবি অজিত দত্তর ' নােঙর' কবিতায় নানা প্রতীকে হৃদয়ের অনুভূতির ব্যঞ্জনা ধরা পড়েছে। 'নােঙর'-কে তিনি বন্ধনের প্রতীকরূপে আর পরিচিত বাস্তবজগৎকে নদীর তটের প্রতীকরূপে ব্যবহার করেছেন। বাস্তব প্রয়ােজনের জগতের বাইরের জগৎকে তিনি 'দূর সিন্ধুপার' বা 'সপ্তসিন্ধুপার' বলে অভিহিত করেছেন। সেই বহুদূর কায়নিক জগতে পাড়ি দিতে চেয়েও কবির জীবন-নৌকা নােঙরে বাঁধা পড়েছে। জোয়ারের ঢেউগুলি কবির জীবনের স্বপ্ন-আশা-আকাঙ্ক্ষার প্রতীক নৌকায় মাথা ঠুকে অর্থাৎ কবির মনের দরজায় মাথা ঠুকে ব্যর্থ হয়ে তারা সমুদ্রের দিকে ছুটে যায়। সেই দূর সমুদ্রে পাড়ি দিতে চেয়েছিলেন কবিও। কাছি যেন বাস্তবজীবনের নানা সম্পর্কের সূত্র। জোয়ারভাটা হল জীবনের উত্থানপতন, আশা-নিরাশার প্রতীক। নােঙর যেমন স্থিতি বা বন্ধন, তেমনি স্রোত হল। গতির প্রতীক। 'বাণিজ্য', 'পণ্য' এগুলি হল লাভক্ষতিময় জীবন-জীবিকা ও সৃষ্টিসম্পদের প্রতীক। এভাবেই প্রতীকের সাহায্যে তৈরি করা হয়েছে কবিতার ব্যঞ্জনা। তাই সবদিক বিচার করে নােঙর'-কে একটি আদর্শ প্রতীকী কবিতা বলা যায়।

২. ‘নোঙর’ কবিতাটির নামকরণের তাৎপর্য আলোচনা করো।

উত্তরঃ ‘নোঙর শব্দটিএসেছে ফারসি ‘লঙ্গর’ শব্দ থেকে। নৌকাকে জলের মধ্যে বেঁধে রাখার ভারী বস্তুবিশেষকে নোঙর বলা হয়। শিকল বা কাছির সঙ্গে লোহার এই নোঙর বেঁধে জলের নীচে ফেলে কাছির অন্য প্রান্ত দিয়ে নৌকা বেঁধে রাখা হয়।

        কবি অজিত দত্তের আলোচ্য কবিতা ‘নোঙর’-এর মাধ্যমে মানবজীবনের বন্ধনের কথা বলা হয়েছে। মানুষের জীবনও নৌকার মতো – সম্পর্কের, কর্মের, দায়িত্ব-কর্তব্যবোধের নোঙরে তা বাঁধা পড়ে থাকে। যারা ভাবুক, সৃষ্টিশীল ও রোমান্টিক মনের মানুষ, তাঁরা জীবনের সমস্ত বন্ধন ছিন্ন করে বাস্তব থেকে দূরে চলে যেতে চান মাঝে মাঝে। তাঁদের মনের স্বপ্ন-কল্পনার জগৎ ও কথিন বাস্তব জগতের মধ্যে সংঘাত দেখা দেয়। কবির সৃষ্টিশীল মনেও এমনই সংঘাত চলে। সুদূরের আহ্বানকে তিনি উপেক্ষা করতে পারেন না, আবার দৈনন্দিন জীবনের সীমাবদ্ধতা থেকে বেরোতেও পারেন না। তাঁর জীবন যেন নোঙরে বাঁধা পড়া এক নৌকা। তাই এ কবিতায় নোঙর হল বন্ধনেরই প্রতিশব্দ। সেদিক থেকে বিচার করলে আলোচ্য কবিতাটির ‘নোঙর’ নামটি সার্থক ও যথাযথ।   

৩. ‘নোঙর’ কবিতায় স্থিতি ও গতির চিত্র কীভাবে ধরা পড়েছে বুঝিয়ে দাও।

উত্তরঃ কবি অজিত দত্ত রচিত ‘নোঙর’ কবিতায় স্থিতি ও গতির চিত্র সুচারুভাবে আঁকা হয়েছে। সমগ্র কবিতায় ছড়িয়ে আছে স্থিতি ও গতির নানা অনুষঙ্গ। স্থিতি ও গতির দ্বন্দ্বে ক্ষতবিক্ষত মানবহৃদয়ের চিত্র তুলে ধরা আলোচ্য কবিতার অন্যতম ভাববস্তু। বাস্তব জগতের পরিচিত জগতের সীমানায় কবির মন আবদ্ধ থাকতে চায় না। তরি নিয়ে তিনি সাতসমুদ্রপারে যাত্রা করতে চান। কিন্তু অজান্তেই কখন যেন সেই তরি স্থিতিশীলতা নোঙরের কাছিতে বাঁধা পড়ে গেছে—‘নোঙর গিয়েছে পড়ে তটের কিনারে। নোঙর আর তটের উল্লেখের মাধ্যমে কবি বাস্তবজগতের স্থিতিশীলতার চিত্র তুলে ধরেছেন। নিশ্চল নৌকাও স্থিতিকেই চিহ্নিত করে। অন্যদিকে জোয়ারের ঢেউগুলি গতির বার্তা নিয়ে আসে। কবির নিশ্চল জীবনে অভিঘাত হেনে তাকে সচল করতে চায়। তরি তবু চলে না। বদ্ধ তরিতে মাথা ঠুকে অভিমানী ঢেউগুলি ফিরে যায় গতির জগতে। জোয়ারভাটা আসে যায়। নদী আর সমুদ্রের স্রোত চিরচল, গতিশীল তেমন, কবির রোমান্টিক মনও গতিশীল। কিন্তু বাস্তবতার স্থবির পটভূমিতে কবি অসংখ্য বন্ধনে বন্দি, তাঁর জীবনতরি গতিহারা। রাতের নিস্তব্ধ নিঃসঙ্গ মুহূর্তগুলি কবির জীবনে গতির আকাঙ্ক্ষা জাগিয়ে তোলে। সারারাত তিনি অবিরাম নিক্ষেপ করে চলেন দাঁড়। কিন্তু তাঁর ব্যর্থ প্রচেষ্টাকে বিদ্রুপ করে স্রোত—“নিস্তব্ধ মুহূর্তগুলি সাগরগর্জনে ওঠে কেঁপে, স্রোতের বিদ্রুপ শুনি প্রতিবার দাঁড়ের নিক্ষেপে।” দাঁড় টেনে টেনে, পাল তুলে, তারার দিকে চেয়ে নিশানা স্থির গতির বার্তা করেও কবি দূর সমুদ্রপারে পাড়ি দিতে ব্যর্থ হন। এই ব্যর্থতার বেদনায় বিষণ্ণ কবি গতিশীল জীবনধর্মে দীক্ষিত বলেই জীবনের কাঙ্খিত গন্তব্যে পৌঁছনোর আশায় তবু দাঁড় টেনে যান। এভাবেই ‘নোঙর’ কবিতার চিরকালীন গতিময়তার কথা ব্যঞ্জিত হয়েছে।

৪. ‘নোঙর’ কবিতা অবলম্বনে কবির সমুদ্রযাত্রার উদ্যোগ এবং ব্যর্থতার পরিচয় দাও।

উত্তরঃ ‘নোঙর’ কবিতায় রোমান্টিক কবি অজিত দত্তের কাঙ্ক্ষিত গন্তব্যে পৌঁছোনোর অভীপ্সা প্রকাশিত হয়েছে। পারিপার্শ্বিক বন্ধনের সীমানা পেরিয়ে তিনি চলে যেতে চান সমুদ্রযাত্রার উদ্যোগ সপ্তসিন্ধুপারে। জলপথে কবির যাত্রা, তাই নৌকা প্রস্তুত রেখেছেন। সেই নৌকায় সারাজীবনের সঞ্চয় বোঝাই করেছেন, মাস্তুলে পাল বেঁধেছেন, হাতের মুঠোয় ধরেছেন দাঁড়। -“পাড়ি দিতে দূর সিন্ধুপারে নোঙর গিয়েছে পড়ে তটের কিনারে।”কিন্তু নিজের অজান্তে কখন তটের কিনারে নোঙর পড়ে গেছে। কবির সমদূরপিয়াসী মন বাঁধা পড়ে গেছে অদৃশ্য জাগতিক বন্ধনে। গতিশীল জীবনধর্মে দীক্ষিত আশাবাদী কবি থেমে থাকতে চান না, প্রতিবন্ধকতাকে অতিক্রম করতে তিনি অবিরত জীবনতরীর দাঁড় টানেন। যাত্রার মুহূর্তে দাঁড় বাইতে গিয়ে কবি অনুভব করেন নিজেরই অজান্তে কখন নোঙর পড়ে গেছে তটের কিনারে। কিন্তু তাঁর মন এই বন্ধনকে মেনে নিতে চায় না। তাই কবি সারারাত মিছে দাঁড় টানেন। জোয়ারভাটায় বাঁধা জীবনের এ তটে কবি নিশ্চল হয়ে পড়ে থাকেন। তাঁর চোখের সামনে ঢেউগুলি দুরন্ত গতির বার্তা নিয়ে আসে আর সাড়া না পেয়ে ফিরে যায়। চঞ্চল স্রোত কবির স্থবিরতাকে বিদ্রুপ করে। নিস্তব্ধ রাতে কবি অবিরাম দাঁড় টেনে চলেন। বারবার ব্যর্থ হয়েও তিনি গন্তব্যে পৌঁছোনোর আশা ও চেষ্টা ত্যাগ করেন না। কিন্তু তিনি জানেন এই দাঁড় টানা মিছে বা বৃথা। অসহায়, নিরুপায় কবির মন ব্যর্থতার বেদনায় ভারাক্রান্ত হয়ে পড়ে।

৫.“নােঙর গিয়েছে পড়ে তটের কিনারে” — ‘নােঙর’ এখানে কীসের প্রতীক? কবি নৌকা নিয়ে কোথায় যেতে চান? কবির আকাঙ্ক্ষা ও আক্ষেপ কীভাবে প্রকাশিত হয়েছে?

উত্তরঃ কবি অজিত দত্ত রচিত ‘নােঙর' কবিতায় নােঙর হল জীবনের বিভিন্ন বন্ধন বা স্থিতিশীলতার প্রতীক। কবি নৌকা নিয়ে যেতে চান সুদূর সাতসাগরের পাড়ে৷ বাস্তব জীবনের বাধাবন্ধন থেকে অনেক দূরে কল্পনালােকে পাড়ি দিতে চান কবি। মধ্যযুগের সওদাগরদের মতাে কবি ভাসিয়ে দিতে চান তার সৃষ্টিসম্পদে ভরা নৌকা। রােজকার একঘেয়ে জীবনযাপন থেকে ছুটি নিয়ে তার কল্পনাপ্রবণ মন দূর অচেনা অজানা দেশে পাড়ি দিতে চায়।। কবির আকাঙ্ক্ষা সাতসমুদ্রপাড়ে পাড়ি দেওয়ার। কবির ভাবুক মন সংসারের দায়িত্ব কর্তব্যের বাঁধন মানতে চায় না। কর্মময়, সাংসারিক জীবনের বাঁধন তাকে কঠিনভাবে বেঁধে রাখে। স্রোতের গতি কবির এই দায়িত্বের বন্ধনকে বিদ্রুপ করে, কিন্তু কবি নিরুপায়, অসহায়। এই দাঁড় টানা বৃথা জেনেও তিনি অবিরাম দাড় টেনে চলেন। তাই কবির তীব্র আক্ষেপ

“তরী ভরা পণ্য নিয়ে পাড়ি দিতে সপ্তসিন্ধুপারে,

নােঙর কখন জানি পড়ে গেছে তটের কিনারে।

সারারাত তবু দাঁড় টানি, তবু দাড় টানি।।” 

এভাবেই ‘নােঙর’ কবিতাটি কবির আকাঙ্ক্ষার অপূর্ণতা ও আক্ষেপের বেদনায় ধূসর হয়ে উঠেছে।

৬. “সারারাত তবু দাড় টানি”—কবি সারারাত দাড় টানেন কেন? ‘দাড়’ কথাটি বলার কারণ কী? এই দাঁড় টানার মধ্য দিয়ে কবির কোন্ মানসিক অবস্থার পরিচয় ফুটে ওঠে?

উত্তরঃ কবি অজিত দত্ত ‘নােঙর’ কবিতায় বলেছেন যে নৌকাভরা পণ্য নিয়ে তিনি সাতসাগরের পাড়ে পাড়ি দিতে চান। তাই তিনি সারারাত দাঁড় টানেন।

‘তবু’ শব্দের অর্থ ‘তা সত্ত্বেও’ পণ্যভরা নৌকা নিয়ে সাতসাগরপারে যাওয়ার বাসনা ছিল কবির। কিন্তু কখন তটের কিনারে নােঙর পড়ে গেছে তিনি বুঝতেও পারেননি। নৌকা যে আর তট ছেড়ে যাবেনা কখনও, তা তিনি জানেন। তবু মন যেন এই সত্য মানতে চায় না। কঠিন সত্যটি জানা সত্ত্বেও কবি সারারাত দাঁড় টেনে চলেন। এই কারণেই ‘তবু কথাটি বলা হয়েছে। এই দাঁড় টানার মধ্য দিয়ে কবির অদম্য মানসিকতার পরিচয় পাওয়া যায়। তিনি জানেন, সমাজ-সংসারের নানা বন্ধন তাকে আষ্টেপৃষ্ঠে বেঁধে রেখেছে। তবু তার কল্পনাবিলাসী মন বাঁধনহারা জীবনের স্বাদ পেতে চায়। তার চারপাশ বাস্তব। বলে এই দাঁড় টানা বৃথা, কিন্তু তার অবচেতন মন আশা-স্বপ্নের জাল বুনে চলে। তাই তিনি অবিরাম দাড় টেনে চলেন। কবি জানেন, তার বাসনা হয়তো কোনােদিনই পূরণ হবে না, তবু স্বপ্নময় জীবনের অনুসন্ধানে তার ক্লান্তি নেই। দূর সাগরে পাড়ি দেওয়ার স্বপ্নই তাকে বাঁচিয়ে রাখে।

নবম শ্রেণীর সাজেশন | WBBSE Class 5 Suggestion

Class 5 Bengali Suggestion Click Here

Class 5 English Suggestion Click Here

Class 5 Geography Suggestion Click Here

Class 5 History Suggestion Click Here

Class 5 Science Suggestion Click Here

Class 5 Mathematics Suggestion Click Here

নোঙর (কবিতা) অজিত দত্ত - নবম শ্রেণীর বাংলা প্রশ্ন ও উত্তর - নবম শ্রেণীর বাংলা প্রশ্ন ও উত্তর | WBBSE Class 9th Bengali Nongor Question and Answer | এখন বাংলা - Ekhon Bangla

আশা করি এই পোস্টটি বা " নোঙর (কবিতা) অজিত দত্ত - নবম শ্রেণীর বাংলা প্রশ্ন ও উত্তর - নবম শ্রেণীর বাংলা প্রশ্ন ও উত্তর | WBBSE Class 9th Bengali Nongor Question and Answer " এখন বাংলা - Ekhon Bangla থেকে আপনি উপকৃত হবেন। প্রতিদিন সব খবর সবার আগে জানতে এখন বাংলা বা www.ekhonbangla.in ওয়েবসাইট দেখুন অথবা আমাদের Google News এ (Follow Us) ফলো করুন এবং আমাদের Telegram Channel Follow, WhatsApp Channel Follow করুন, ধন্যবাদ।

নবীনতর পূর্বতন
Google News Follow Now
WhatsApp Channel Follow Now