AI কি মানুষের চাকরি কেড়ে নেবে? IIT Madras গবেষণায় উঠে এল কাজের ভবিষ্যতের বড় পরিবর্তন
AI and Jobs in India: কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা Artificial Intelligence (AI) কি আগামী দিনে মানুষের চাকরি কেড়ে নেবে? প্রযুক্তির দ্রুত বিস্তারের সঙ্গে এই প্রশ্ন এখন বিশ্বজুড়েই আলোচনায়। তবে IIT Madras-এর নতুন গবেষণা বলছে, বিষয়টিকে শুধু ‘চাকরি থাকবে না কি থাকবে’—এই দুই ভাগে দেখলে বাস্তব ছবিটা ধরা পড়বে না।
ইন্ডিয়ান ইনস্টিটিউট অফ টেকনোলজি মাদ্রাজের Wadhwani School of Data Science and Artificial Intelligence (WSAI)-এর অধীন Centre for Responsible AI (CeRAI) প্রকাশ করেছে “How AI Is Reconfiguring Work in India” শীর্ষক গবেষণাপত্র। ২২ অক্টোবর ২০২৬-এর Industry Conclave on AI Governance 2026-এ গবেষণাটি প্রকাশ করা হয়।
গবেষণার মূল বক্তব্য হল—AI কোনও পেশার সমস্ত কাজ একসঙ্গে দখল করে নেবে, এমনটা ধরে নেওয়া ঠিক নয়। বরং একটি চাকরির মধ্যে থাকা আলাদা আলাদা কাজ (tasks) কীভাবে AI দ্বারা স্বয়ংক্রিয়, সহায়ক বা পরিবর্তিত হচ্ছে, সেটাই বেশি গুরুত্বপূর্ণ।
AI কি তাহলে চাকরি কেড়ে নেবে?
গবেষকদের মতে, AI কিছু নির্দিষ্ট কাজ মানুষের পরিবর্তে করতে পারলেও তার অর্থ এই নয় যে সংশ্লিষ্ট পুরো চাকরি বা পেশাটিই বিলুপ্ত হয়ে যাবে।
একটি চাকরির মধ্যে সাধারণত একাধিক ধরনের কাজ থাকে। এর মধ্যে কিছু কাজ নিয়মভিত্তিক ও পুনরাবৃত্তিমূলক হওয়ায় AI সহজে করতে পারে। অন্যদিকে এমন অনেক কাজ রয়েছে যেখানে মানুষের অভিজ্ঞতা, বিচারবুদ্ধি, যোগাযোগ দক্ষতা এবং চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা এখনও গুরুত্বপূর্ণ।
IIT Madras-এর গবেষণায় তাই AI-এর প্রভাবকে Task → Job → Occupation → Labour Market—এই বিভিন্ন স্তরে বিশ্লেষণ করার প্রয়োজনীয়তার কথা বলা হয়েছে।
মানুষ ও AI একসঙ্গে কীভাবে কাজ করবে?
গবেষণায় মানুষ ও AI-এর সহযোগিতামূলক কাজের একাধিক সম্ভাব্য ধরন তুলে ধরা হয়েছে।
একটি পরিস্থিতিতে AI কাজের বড় অংশ সম্পন্ন করতে পারে এবং মানুষ তার ফলাফল পরীক্ষা, সংশোধন ও অনুমোদন করতে পারেন।
অন্য ক্ষেত্রে মূল নিয়ন্ত্রণ থাকবে মানুষের হাতে। AI তখন দ্রুত তথ্য বিশ্লেষণ, খসড়া তৈরি বা অন্যান্য সহায়ক কাজ করবে, কিন্তু চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবেন মানুষ।
অর্থাৎ ভবিষ্যতের কর্মক্ষেত্রে “মানুষ বনাম AI”-এর বদলে মানুষ + AI মডেলও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।
কোন ধরনের কাজে AI-এর প্রভাব বেশি হতে পারে?
গবেষণার আলোচনায় এমন কাজের কথা উঠে এসেছে যেগুলি তুলনামূলকভাবে নিয়মভিত্তিক এবং বারবার একই ধরনের প্রক্রিয়া অনুসরণ করে।
যেমন—
ব্যবসায়িক প্রক্রিয়ার কিছু নির্দিষ্ট কাজ
হিসাবরক্ষণ ও ডেটা-ভিত্তিক কাজ
গুণমান যাচাইয়ের কিছু প্রক্রিয়া
Customer support-এর কিছু routine কাজ
তথ্য বিশ্লেষণ ও নথি তৈরির কিছু অংশ
এই ধরনের কাজে AI ব্যবহারের খরচ কমে এলে প্রযুক্তির ব্যবহার আরও দ্রুত বাড়তে পারে।
তবে জটিল সিদ্ধান্ত, মানুষের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ, বিশেষজ্ঞ বিচার এবং উচ্চ ঝুঁকির ক্ষেত্রে মানুষের ভূমিকা অনেক ক্ষেত্রেই গুরুত্বপূর্ণ থাকতে পারে।
বড় শহর ও বড় সংস্থায় AI-এর ব্যবহার আগে বাড়তে পারে?
গবেষণার একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল AI ব্যবহারের খরচ ও প্রযুক্তির সক্ষমতা।
সব সংস্থা একই সময়ে একই ধরনের AI প্রযুক্তি গ্রহণ করবে না। উন্নত AI ব্যবহারের জন্য পরিকাঠামো, প্রশিক্ষণ এবং অর্থের প্রয়োজন হতে পারে। ফলে বড় সংস্থা বা প্রযুক্তিগতভাবে উন্নত কর্মক্ষেত্রে AI-এর ব্যবহার তুলনামূলকভাবে দ্রুত বাড়তে পারে।
অন্যদিকে ছোট সংস্থা বা কম প্রযুক্তিনির্ভর ক্ষেত্রগুলিতে পরিবর্তনের গতি আলাদা হতে পারে। AI-এর প্রভাব তাই শুধু প্রযুক্তি কতটা শক্তিশালী, তার উপর নয়; কোন প্রতিষ্ঠান কীভাবে প্রযুক্তিটি ব্যবহার করছে এবং তার খরচ কত—সেটিও গুরুত্বপূর্ণ।
Entry-Level চাকরিতে কি বড় পরিবর্তন আসতে পারে?
গবেষণার আলোচনায় একটি গুরুত্বপূর্ণ উদ্বেগ হল entry-level কাজের পরিবর্তন।
অনেক পেশায় নতুন কর্মীরা প্রথমে কিছু নিয়মিত ও তুলনামূলক সহজ কাজের মাধ্যমে অভিজ্ঞতা অর্জন করেন। সেই ধরনের কাজ AI করতে শুরু করলে নতুন কর্মীদের হাতে বাস্তব অভিজ্ঞতা সংগ্রহের সুযোগ কমে যেতে পারে।
এর ফলে চাকরি পুরোপুরি হারিয়ে না গেলেও career ladder বা অভিজ্ঞতা অর্জন করে ধাপে ধাপে উচ্চপদে যাওয়ার পথ পরিবর্তিত হতে পারে। এই বিষয়টি বিশেষভাবে নজরে রাখার প্রয়োজন রয়েছে বলে গবেষণাকে ঘিরে আলোচনায় উঠে এসেছে।
কর্মীদের কী করতে হবে?
IIT Madras-এর গবেষণার আলোকে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলির একটি হল Reskilling এবং Upskilling।
অর্থাৎ কর্মীদের শুধু বর্তমান কাজের জন্য দক্ষ থাকলেই হবে না। AI-এর কারণে কাজের ধরন পরিবর্তিত হলে নতুন প্রযুক্তি ব্যবহার, তথ্য বিশ্লেষণ, সমস্যা সমাধান এবং AI-এর সঙ্গে কাজ করার মতো দক্ষতাও গড়ে তুলতে হবে।
প্রতিষ্ঠানগুলিরও কর্মীদের জন্য নতুন প্রশিক্ষণের সুযোগ তৈরি করা এবং AI ব্যবহারের ফলে পরিবর্তিত দায়িত্বের সঙ্গে কর্মীদের মানিয়ে নেওয়ার পথ তৈরি করা প্রয়োজন।
AI-এর ভবিষ্যৎ: চাকরি কমবে, নাকি কাজের ধরন বদলাবে?
IIT Madras-এর গবেষণা সরাসরি এমন কোনও সিদ্ধান্ত দেয় না যে AI মানুষের চাকরি কেড়ে নেবে বা কেড়ে নেবে না। বরং গবেষণাটি দেখাচ্ছে যে AI-এর প্রভাব নির্ভর করবে কাজের প্রকৃতি, শিল্পক্ষেত্র, প্রযুক্তির খরচ, নিয়ম-কানুন এবং প্রতিষ্ঠানগুলি কীভাবে কাজ পুনর্গঠন করছে তার উপর।
| বিষয় | সম্ভাব্য পরিবর্তন |
|---|---|
| Routine Tasks | AI দ্বারা স্বয়ংক্রিয় হওয়ার সম্ভাবনা বেশি |
| Human Decision | গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রে মানুষের ভূমিকা থাকবে |
| Existing Jobs | দায়িত্ব ও কাজের ধরন বদলাতে পারে |
| New Roles | AI-নির্ভর নতুন কাজ তৈরি হতে পারে |
| Entry-Level Work | কাজ শেখার প্রচলিত পথ পরিবর্তিত হতে পারে |
| Employee Skills | Reskilling ও Upskilling-এর গুরুত্ব বাড়বে |
শেষ কথা
AI নিয়ে “সব চাকরি চলে যাবে”—এমন সরল ধারণার পরিবর্তে কাজের ভিতরের পরিবর্তনকে বোঝা বেশি জরুরি, বলছে IIT Madras-এর CeRAI-এর গবেষণা। AI কিছু কাজকে স্বয়ংক্রিয় করতে পারে, কিছু কাজকে সহজ করতে পারে এবং একইসঙ্গে নতুন ধরনের দায়িত্ব ও কাজের সুযোগও তৈরি করতে পারে।
তাই ভবিষ্যতের কর্মজগতে সবচেয়ে বড় পরিবর্তন সম্ভবত শুধু চাকরির সংখ্যা নয়, চাকরির চরিত্র ও প্রয়োজনীয় দক্ষতার ক্ষেত্রে দেখা যাবে। কর্মী, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এবং নিয়োগদাতাদের জন্য এখন থেকেই সেই পরিবর্তনের প্রস্তুতি নেওয়াই গুরুত্বপূর্ণ।
