WhatsApp Channel Follow Now
Telegram Channel Follow Now
YouTube Subscribe

 

Andhua Farakka: বিদ্যুতের হুকিং বন্ধে পুলিশের বড় অভিযান, গ্রামে চলছে তার সরানোর কাজ

Andhua Farakka: বিদ্যুতের হুকিং বন্ধে পুলিশের বড় অভিযান, গ্রামে চলছে তার সরানোর কাজ

ফারাক্কা, মুর্শিদাবাদ: পশ্চিমবঙ্গের মুর্শিদাবাদ জেলার ফারাক্কা থানার অন্তর্গত আন্দুয়া (Andhua) গ্রাম এলাকায় বিদ্যুতের অবৈধ হুকিং বন্ধ করতে বড়সড় অভিযান চালানো হয়েছে। অভিযোগ, এলাকার বিভিন্ন বাড়িতে দীর্ঘদিন ধরে হুকিংয়ের মাধ্যমে বিদ্যুৎ ব্যবহার করা হচ্ছিল। সেই অভিযোগের ভিত্তিতে রবিবার এলাকায় বিপুল সংখ্যক পুলিশ ও নিরাপত্তাকর্মী মোতায়েন করে শুরু হয় অভিযান।

অভিযানের সময় বিভিন্ন জায়গায় টানা বিদ্যুতের তার ও হুকিং সংযোগ সরিয়ে দেওয়ার কাজ শুরু হয়। এলাকায় ছড়িয়ে থাকা বিপুল সংখ্যক তারের কারণে পরিস্থিতি যেমন ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছিল, তেমনই বিদ্যুৎ নিরাপত্তা নিয়েও তৈরি হয়েছিল উদ্বেগ।

গ্রামে ছড়িয়ে ছিল অসংখ্য বিদ্যুতের তার

আন্দুয়া গ্রামের বিভিন্ন জায়গায় রাস্তা, বাড়িঘর এবং বিদ্যুতের খুঁটির উপর দিয়ে অসংখ্য তার ছড়িয়ে থাকতে দেখা যায়। বেশ কিছু তার খুঁটি থেকে বিভিন্ন বাড়ির দিকে টানা ছিল। স্থানীয় সূত্রের দাবি, দীর্ঘদিন ধরেই এলাকায় অবৈধ বিদ্যুৎ সংযোগ বা হুকিং নিয়ে সমস্যা ছিল।

অভিযানের সময় প্রশাসনের উপস্থিতিতে ঝুঁকিপূর্ণ ও অবৈধভাবে টানা তার সরানোর কাজ শুরু হয়। এর ফলে এলাকায় বিদ্যুৎ সংযোগের নিরাপত্তা নিয়েও নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।

বিপুল পুলিশ ও নিরাপত্তা বাহিনী মোতায়েন

অভিযানকে কেন্দ্র করে এলাকায় বিপুল সংখ্যক পুলিশ ও নিরাপত্তাকর্মী উপস্থিত ছিলেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে এবং কোনও ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে এলাকায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়।

পুলিশ ও নিরাপত্তাকর্মীদের উপস্থিতিতে বিভিন্ন জায়গায় ছড়িয়ে থাকা তার ও হুকিং সংযোগ সরানোর কাজ চলতে থাকে। ঘটনাস্থলের ছবিতেও বিপুল সংখ্যক পুলিশ ও নিরাপত্তাকর্মীর উপস্থিতি দেখা যাচ্ছে।

বিদ্যুৎ হুকিং নিয়ে বাড়ছে উদ্বেগ

অবৈধভাবে বিদ্যুৎ সংযোগ নেওয়া অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। এ ধরনের সংযোগের কারণে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হওয়া, শর্ট সার্কিট এবং অগ্নিকাণ্ডের মতো দুর্ঘটনার আশঙ্কা থাকে। তাই প্রশাসনের পক্ষ থেকে অবৈধ সংযোগ বন্ধ করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানা যাচ্ছে।

তবে কতগুলি সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয়েছে এবং এই ঘটনায় কোনও আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে কি না, সে বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বিস্তারিত বক্তব্য এখনও স্পষ্ট নয়।

NTPC Farakka নিয়ে গ্রামবাসীদের দাবি

অন্যদিকে, বিদ্যুতের হুকিং বন্ধের অভিযানের পাশাপাশি আন্দুয়া গ্রামের বাসিন্দাদের একাংশ তাঁদের দীর্ঘদিনের পরিবেশ ও বিদ্যুৎ সংক্রান্ত দাবির কথাও সামনে এনেছেন।

গ্রামবাসীদের দাবি, তাঁদের গ্রাম থেকে মাত্র প্রায় ৩ কিলোমিটার দূরে NTPC Farakka তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র অবস্থিত। তাঁদের অভিযোগ, প্রকল্প এলাকা থেকে ধোঁয়া, ছাই এবং বিভিন্ন ধরনের রাসায়নিকজাতীয় পদার্থ উড়ে এসে আশপাশের পরিবেশের উপর প্রভাব ফেলছে। এর ফলে এলাকার মানুষের স্বাস্থ্যের উপরও ক্ষতিকর প্রভাব পড়ছে বলে তাঁদের অভিযোগ।

গ্রামবাসীদের একাংশের বক্তব্য, প্রায় ৪০ বছর ধরে তাঁরা এই এলাকার পরিবেশ ও স্বাস্থ্য নিয়ে সমস্যার মুখোমুখি হচ্ছেন। তাঁদের দাবি, এত বছর ধরে NTPC প্রকল্পের এত কাছাকাছি বসবাস করেও স্থানীয় মানুষের স্বাস্থ্য ও পরিবেশের বিষয়টি যথেষ্ট গুরুত্ব পায়নি।

“NTPC থেকে অন্তত বিনামূল্যে বিদ্যুৎ দেওয়া হোক”—দাবি গ্রামবাসীদের

গ্রামবাসীদের একাংশের আরও দাবি, যেহেতু তাঁদের এলাকার এত কাছেই NTPC Farakka তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র রয়েছে এবং প্রকল্পের কারণে পরিবেশ ও স্বাস্থ্যের উপর প্রভাব পড়ছে বলে তাঁরা অভিযোগ করছেন, তাই স্থানীয় বাসিন্দাদের অন্তত বিনামূল্যে বিদ্যুৎ দেওয়ার ব্যবস্থা করা উচিত।

তাঁদের বক্তব্য, একদিকে হুকিং বন্ধ করা হচ্ছে, অন্যদিকে দীর্ঘদিন ধরে এলাকার মানুষের নানা সমস্যার অভিযোগ রয়েছে। তাই শুধু অবৈধ সংযোগ বিচ্ছিন্ন না করে, এলাকার মানুষের বিদ্যুতের সমস্যার একটি স্থায়ী সমাধানও করা দরকার।

গ্রামবাসীদের দাবি বনাম প্রশাসনের অভিযান

একদিকে প্রশাসনের অভিযান চলছে অবৈধ বিদ্যুৎ সংযোগ বন্ধ করার লক্ষ্যে, অন্যদিকে গ্রামবাসীদের একাংশ তাঁদের দীর্ঘদিনের বিদ্যুৎ ও পরিবেশ সংক্রান্ত দাবিগুলি সামনে এনেছেন।

গ্রামবাসীদের দাবি, হুকিং বন্ধ করার পাশাপাশি তাঁদের বিদ্যুতের সমস্যার স্থায়ী সমাধান এবং পরিবেশ ও স্বাস্থ্য সংক্রান্ত অভিযোগগুলিও গুরুত্ব দিয়ে দেখা হোক।

উল্লেখ্য: NTPC-এর কারণে ধোঁয়া, ছাই বা রাসায়নিক পদার্থের মাধ্যমে স্বাস্থ্যক্ষতির অভিযোগগুলি এখানে গ্রামবাসীদের বক্তব্য হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে। এই অভিযোগের বৈজ্ঞানিক প্রমাণ, পরিবেশগত তথ্য বা NTPC কর্তৃপক্ষের বক্তব্য পাওয়া গেলে বিষয়টি আরও স্পষ্ট হবে। একইভাবে, বিনামূল্যে বিদ্যুৎ দেওয়ার দাবি বর্তমানে গ্রামবাসীদের দাবি—এটি কোনও সরকারি সিদ্ধান্ত নয়।

নবীনতর পূর্বতন
WhatsApp Channel Follow Now
Telegram Channel Follow Now
YouTube Subscribe