Government Job Exam 2026: সরকারি চাকরির পরীক্ষায় বড় বদল, OMR কপি থেকে ভাইভার নম্বর—কী ঘোষণা করলেন শুভেন্দু?
কলকাতা: সরকারি চাকরির পরীক্ষায় স্বচ্ছতা বাড়াতে বড় ধরনের পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিয়েছেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। চাকরিপ্রার্থীদের জন্য পরীক্ষা প্রক্রিয়াকে আরও স্বচ্ছ ও নির্ভরযোগ্য করার লক্ষ্যে OMR শিটের কার্বন কপি পরীক্ষার্থীদের হাতে তুলে দেওয়া, মৌখিক পরীক্ষার নম্বর কমানো এবং প্রাপ্ত নম্বর প্রকাশের মতো একাধিক পদক্ষেপের কথা জানানো হয়েছে।
তবে এটিকে সরাসরি “সরকারি চাকরির পরীক্ষা সহজ হয়ে যাচ্ছে” বলা ঠিক হবে না। বরং পরীক্ষার পদ্ধতিতে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি বাড়ানোর দিকেই সরকারের প্রস্তাবিত পরিবর্তনগুলির মূল লক্ষ্য বলে জানা যাচ্ছে।
OMR শিটের কার্বন কপি পাবেন পরীক্ষার্থীরা
নতুন ব্যবস্থায় লিখিত পরীক্ষার পর পরীক্ষার্থীদের OMR শিটের কার্বন কপি বাড়িতে নিয়ে যাওয়ার সুযোগ দেওয়ার কথা বলা হয়েছে।
এর ফলে পরীক্ষার্থীরা পরীক্ষায় কী উত্তর দিয়েছেন, তা পরে নিজেরাই মিলিয়ে দেখতে পারবেন। একই সঙ্গে নিয়োগ পরীক্ষার স্বচ্ছতা নিয়েও প্রশ্ন কমবে বলে মনে করা হচ্ছে।
কমানো হতে পারে ভাইভা বা Oral-এর গুরুত্ব
সরকারি চাকরির নিয়োগে মৌখিক পরীক্ষার নম্বর কমানোর কথাও জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। লিখিত পরীক্ষা এবং প্রার্থীর যোগ্যতা ও মেধাকে তুলনামূলক বেশি গুরুত্ব দেওয়ার লক্ষ্য রয়েছে বলে প্রকাশিত প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
ভাইভা বা Oral পরীক্ষায় নম্বর কমানো হলে লিখিত পরীক্ষার পারফরম্যান্সের গুরুত্ব আরও বাড়তে পারে।
ওয়েবসাইটে প্রকাশ হতে পারে প্রার্থীর নম্বর
নিয়োগ প্রক্রিয়ায় আরও স্বচ্ছতা আনতে পরীক্ষার্থীদের প্রাপ্ত নম্বর সংশ্লিষ্ট নিয়োগকারী সংস্থা বা বোর্ডের ওয়েবসাইটে প্রকাশের বিষয়েও কথা বলা হয়েছে।
এর ফলে প্রার্থীরা নিজের ফলাফল সম্পর্কে আরও পরিষ্কার ধারণা পাবেন এবং নিয়োগ প্রক্রিয়া নিয়ে স্বচ্ছতা বাড়বে।
UPSC-র আদলে নিয়োগ ব্যবস্থা?
রাজ্য সরকারি নিয়োগের ক্ষেত্রে কেন্দ্রীয় সরকারের বিভিন্ন নিয়োগ পরীক্ষার পদ্ধতি অনুসরণ করার কথাও বলা হয়েছে। বিশেষ করে নিয়োগ প্রক্রিয়াকে আরও নিয়মবদ্ধ ও স্বচ্ছ করার জন্য UPSC-র আদলে কাঠামো তৈরির পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা হয়েছে।
এছাড়া WBPSC-এর ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট বার্ষিক পরীক্ষার ক্যালেন্ডার তৈরি এবং পরীক্ষার পরিকাঠামো উন্নয়নের পরিকল্পনার কথাও প্রকাশিত প্রতিবেদনে উঠে এসেছে।
দ্রুত নিয়োগের লক্ষ্যও সরকারের
শুধু পরীক্ষা পদ্ধতিতে পরিবর্তন নয়, বিভিন্ন সরকারি দফতরে দ্রুত নিয়োগ সম্পন্ন করার লক্ষ্যও নেওয়া হয়েছে। অক্টোবরের শুরুতে রাজ্য মন্ত্রিসভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী বিভিন্ন দফতরে ১৪,৪৫৪টি নতুন পদে নিয়োগের কথা জানানো হয়েছিল। ৬ থেকে ৮ মাসের মধ্যে পরীক্ষা প্রক্রিয়া শেষ করে নিয়োগ এগিয়ে নেওয়ার লক্ষ্য রয়েছে বলে রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়েছে।
চাকরিপ্রার্থীদের জন্য এর অর্থ কী?
| পরিবর্তন | কী সুবিধা হতে পারে |
|---|---|
| OMR কার্বন কপি | নিজের উত্তর যাচাইয়ের সুযোগ |
| ভাইভার নম্বর কমানো | Written পরীক্ষার গুরুত্ব বাড়তে পারে |
| নম্বর প্রকাশ | নিয়োগ প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা বাড়বে |
| নির্দিষ্ট পরীক্ষার ক্যালেন্ডার | প্রস্তুতির পরিকল্পনা করা সহজ হবে |
| দ্রুত নিয়োগ প্রক্রিয়া | পরীক্ষা ও নিয়োগের দীর্ঘ অপেক্ষা কমার সম্ভাবনা |
পরীক্ষা কি সত্যিই সহজ হবে?
এই মুহূর্তে পরীক্ষার প্রশ্নের মান, সিলেবাস বা কঠিনতার মাত্রা কমিয়ে দেওয়া হবে—এমন কোনও নির্দিষ্ট সিদ্ধান্তের তথ্য পাওয়া যাচ্ছে না।
তাই “সরকারি চাকরির পরীক্ষা এবার সহজ” না বলে “সরকারি চাকরির পরীক্ষা ও নিয়োগ প্রক্রিয়ায় বড় স্বচ্ছতার পরিবর্তন আসতে পারে” বলা বেশি সঠিক।
চাকরিপ্রার্থীদের অবশ্যই মনে রাখতে হবে, কোনও নিয়োগ পরীক্ষার চূড়ান্ত নিয়ম, সিলেবাস, নম্বর বিভাজন ও নির্বাচন পদ্ধতি সংশ্লিষ্ট নিয়োগকারী সংস্থার অফিসিয়াল বিজ্ঞপ্তিতেই নির্ধারিত হবে।
সরকারি চাকরির প্রস্তুতি নেওয়া প্রার্থীদের তাই নতুন নিয়মের আশায় প্রস্তুতি কমিয়ে না দিয়ে আগের মতোই লিখিত পরীক্ষা, গণিত, Reasoning, General Studies এবং সংশ্লিষ্ট বিষয়ের প্রস্তুতি চালিয়ে যাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।
