West Bengal Salary Advance Scheme 2026: রাজ্য সরকারি কর্মীরা পাবেন নেট বেতনের ৩০ গুণ পর্যন্ত অগ্রিম, জানুন নিয়ম ও আবেদন পদ্ধতি
কলকাতা: পশ্চিমবঙ্গের স্থায়ী রাজ্য সরকারি কর্মীদের জন্য নতুন Salary Advance Scheme 2026 চালু করল রাজ্যের অর্থ দপ্তর। জরুরি আর্থিক প্রয়োজন মেটাতে কর্মীদের স্বল্পমেয়াদি এবং দীর্ঘমেয়াদি অগ্রিম অর্থ পাওয়ার সুযোগ করে দেওয়া হয়েছে এই প্রকল্পে। অর্থ দপ্তরের ৩ নভেম্বর ২০২৬ তারিখের নির্দেশিকা অনুযায়ী, স্বল্পমেয়াদি অগ্রিমে নেট বেতনের সর্বোচ্চ ৫০ শতাংশ এবং বহু-মাসিক অগ্রিমে সর্বোচ্চ ৩০ গুণ পর্যন্ত অর্থ পাওয়ার সুযোগ থাকছে।
এই পরিষেবা WBIFMS/HRMS ব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত করে RBI-নিয়ন্ত্রিত Scheduled Commercial Bank ও NBFC-র মাধ্যমে পরিচালনা করা হবে। প্রকল্পটি সরকারের জন্য Zero-Cost and Zero-Liability ভিত্তিতে চালানোর কথা বলা হয়েছে।
কারা Salary Advance Scheme-এর সুবিধা পাবেন?
এই প্রকল্পের আওতায় মূলত পশ্চিমবঙ্গ সরকারের স্থায়ী Group A, Group B, Group C এবং Group D কর্মীরা আসবেন। তবে তাঁদের বেতন Treasury অথবা Pay & Accounts Office-এর মাধ্যমে WBIFMS/HRMS ব্যবস্থায় প্রক্রিয়াকৃত হতে হবে।
অর্থাৎ, সমস্ত অস্থায়ী, চুক্তিভিত্তিক বা অন্যান্য কর্মী স্বয়ংক্রিয়ভাবে এই সুবিধার আওতায় আসবেন—এমনটা ধরে নেওয়া যাবে না। সংশ্লিষ্ট কর্মীর যোগ্যতা ও ঋণদাতা প্রতিষ্ঠানের অনুমোদন প্রয়োজন হবে।
Salary Advance Scheme-এ কী কী সুবিধা রয়েছে?
এই প্রকল্পে দুই ধরনের অগ্রিম অর্থ পাওয়ার ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।
১. Short-Term Advance (স্বল্পমেয়াদি অগ্রিম)
জরুরি ও স্বল্পমেয়াদি আর্থিক প্রয়োজন মেটাতে এই সুবিধা নেওয়া যাবে।
- সর্বোচ্চ অগ্রিম: অনুমোদনের মাসের নেট বেতনের ৫০ শতাংশ পর্যন্ত।
- পরিশোধের সময়: সর্বোচ্চ ৬০ দিন বা প্রকল্পে নির্ধারিত পরবর্তী বেতন চক্র অনুযায়ী।
- নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে শোধ করলে এই অগ্রিমে সুদ লাগবে না।
- বেতন থেকে নির্ধারিত পদ্ধতিতে টাকা কেটে নেওয়া হবে।
উদাহরণ: কোনও সরকারি কর্মীর মাসিক নেট বেতন ২০,০০০ টাকা হলে তিনি সর্বোচ্চ ১০,০০০ টাকা পর্যন্ত Short-Term Advance পাওয়ার যোগ্য হতে পারেন।
২. Multi-Month Advance (দীর্ঘমেয়াদি অগ্রিম)
বড় ধরনের আর্থিক প্রয়োজন মেটাতে এই সুবিধা রাখা হয়েছে। এর মাধ্যমে কর্মীরা একাধিক মাসে কিস্তির মাধ্যমে টাকা পরিশোধ করতে পারবেন।
- সর্বোচ্চ অগ্রিম: নেট মাসিক বেতনের ৩০ গুণ পর্যন্ত।
- পরিশোধের মেয়াদ: সর্বনিম্ন ২ মাস থেকে সর্বোচ্চ ৬০ মাস।
- অবসরের তারিখের পরে ঋণ পরিশোধের মেয়াদ রাখা যাবে না।
- সুদ ও অন্যান্য চার্জ থাকলে তা ঋণদাতা প্রতিষ্ঠানের নির্ধারিত APR অনুযায়ী হবে।
- মেয়াদ শেষ হওয়ার আগে ঋণ পরিশোধ করলে foreclosure বা prepayment charge নেওয়া হবে না।
উদাহরণ: কোনও কর্মীর মাসিক নেট বেতন ২০,০০০ টাকা হলে ৩০ গুণের হিসাব অনুযায়ী সর্বোচ্চ সীমা দাঁড়ায় ৬,০০,০০০ টাকা। তবে এটি সর্বোচ্চ সীমা মাত্র। প্রকৃত অনুমোদিত অর্থ নির্ভর করবে ঋণদাতার মূল্যায়ন, প্রযোজ্য শর্ত এবং EMI সীমার ওপর।
EMI কত টাকা কাটা যাবে?
এই প্রকল্পের একটি গুরুত্বপূর্ণ শর্ত হল, কর্মীর বেতন থেকে অগ্রিমের কিস্তি বাবদ মোট মাসিক EMI নেট বেতনের ৫০ শতাংশের বেশি হতে পারবে না।
অর্থাৎ, কোনও কর্মীর নেট বেতন ২০,০০০ টাকা হলে প্রকল্পের অধীনে EMI বাবদ মাসিক কর্তনের সীমা সর্বোচ্চ ১০,০০০ টাকা। অন্যান্য প্রযোজ্য কর্তন ও নিয়মও বিবেচনা করা হবে।
Salary Advance Scheme কি সুদমুক্ত?
এখানে একটি বিষয় বিশেষভাবে মনে রাখা দরকার। Short-Term Advance নির্ধারিত সময়ের মধ্যে পরিশোধ করলে সুদমুক্ত। কিন্তু Multi-Month Advance-কে সম্পূর্ণ সুদমুক্ত বলা যাবে না।
দীর্ঘমেয়াদি অগ্রিমের ক্ষেত্রে RBI-র নির্দেশিকা মেনে ঋণদাতা ব্যাঙ্ক বা NBFC-র নির্ধারিত সুদ ও অন্যান্য চার্জসহ APR প্রযোজ্য হতে পারে। তাই আবেদন করার আগে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের সুদের হার, EMI, মোট পরিশোধযোগ্য অর্থ এবং অন্যান্য শর্ত ভালোভাবে দেখে নেওয়া জরুরি।
আবেদন করবেন কীভাবে?
এই পরিষেবা WBIFMS/HRMS-এর সঙ্গে সংযুক্ত ডিজিটাল ব্যবস্থার মাধ্যমে পরিচালিত হবে। কর্মীদের নির্ধারিত পদ্ধতিতে ডিজিটাল সম্মতি দিতে হবে। সংশ্লিষ্ট পরিষেবা প্রদানকারী বা ঋণদাতা প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে যোগ্যতা যাচাই ও অগ্রিম অনুমোদনের প্রক্রিয়া সম্পন্ন হবে।
আবেদনের ক্ষেত্রে কয়েকটি বিষয় গুরুত্বপূর্ণ:
- WBIFMS/HRMS ব্যবস্থায় কর্মীর বেতন ও চাকরির তথ্য যাচাই করা হবে।
- সংশ্লিষ্ট ঋণদাতা প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে ডিজিটাল সম্মতি দিতে হবে।
- ঋণদাতা প্রতিষ্ঠান নিজস্ব নিয়ম অনুযায়ী আবেদন ও ঋণযোগ্যতা যাচাই করবে।
- অনুমোদিত অগ্রিমের টাকা এবং পরিশোধের শর্ত সংশ্লিষ্ট কর্মীকে জানানো হবে।
- কর্মীর সম্মতির ভিত্তিতে WBIFMS-এর মাধ্যমে বেতন থেকে কিস্তি কাটা হবে।
Zero-Cost and Zero-Liability Scheme বলতে কী বোঝায়?
এই প্রকল্পের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য হল Zero-Cost and Zero-Liability ব্যবস্থা। অর্থাৎ, রাজ্য সরকার এই ঋণের আর্থিক গ্যারান্টার হবে না এবং ঋণ পরিশোধ না হওয়ার ঝুঁকিও সরকার বহন করবে না।
ঋণ সংক্রান্ত আর্থিক ঝুঁকি সংশ্লিষ্ট ব্যাঙ্ক বা NBFC-র ওপর থাকবে। সরকারের ভূমিকা মূলত কর্মীর সম্মতিপ্রাপ্ত তথ্য আদান-প্রদান, WBIFMS/HRMS-এর সঙ্গে প্রযুক্তিগত সংযোগ এবং নিয়ম অনুযায়ী বেতন থেকে অর্থ কেটে ঋণদাতার কাছে পাঠানোর ব্যবস্থার মধ্যে সীমাবদ্ধ।
একই সময়ে কি একাধিক Advance নেওয়া যাবে?
নির্দেশিকায় বলা হয়েছে, একজন কর্মীর ক্ষেত্রে একই সময়ে একাধিক ঋণদাতা প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে আলাদা অগ্রিম বকেয়া রাখা যাবে না। পুরনো অগ্রিম সম্পূর্ণ পরিশোধ বা নিয়ম অনুযায়ী বন্ধ করার পরেই নতুন অগ্রিমের সুযোগ পাওয়া যাবে। Top-up Facility-র ক্ষেত্রে প্রকল্পের নির্দিষ্ট শর্ত প্রযোজ্য হবে।
কতদিন কার্যকর থাকবে এই প্রকল্প?
অর্থ দপ্তরের নির্দেশিকা অনুযায়ী, প্রকল্পটি বিজ্ঞপ্তি জারির তারিখ থেকে কার্যকর হয়েছে এবং প্রাথমিকভাবে পাঁচ বছরের জন্য চালু রাখার কথা বলা হয়েছে। পরবর্তীতে অর্থ দপ্তর প্রয়োজন অনুযায়ী প্রকল্পের মেয়াদ বৃদ্ধি, পুনর্নবীকরণ বা সংশোধন করতে পারবে।
সরকারি কর্মীদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতা
Salary Advance Scheme-এ নেট বেতনের ৩০ গুণ পর্যন্ত অগ্রিম পাওয়ার সুযোগ থাকলেও প্রত্যেক কর্মী এই সর্বোচ্চ পরিমাণ পাবেন, এমন নিশ্চয়তা নেই। ঋণদাতা প্রতিষ্ঠানের অনুমোদন, সুদের হার, APR, EMI সীমা, চাকরির অবশিষ্ট মেয়াদ এবং অন্যান্য শর্তের ওপর প্রকৃত অঙ্ক নির্ভর করবে।
তাই আবেদন করার আগে সরকারি নির্দেশিকা এবং সংশ্লিষ্ট ব্যাঙ্ক বা NBFC-র শর্তাবলি ভালোভাবে পড়ে নিন। শুধু সর্বোচ্চ ঋণের অঙ্ক দেখে সিদ্ধান্ত না নিয়ে মাসিক কিস্তি ও মোট পরিশোধযোগ্য অর্থও হিসাব করে নেবেন।
West Bengal Salary Advance Scheme 2026 রাজ্য সরকারি কর্মীদের জরুরি আর্থিক প্রয়োজনের ক্ষেত্রে একটি নতুন ঋণসুবিধার সুযোগ তৈরি করল। তবে সুবিধা নেওয়ার আগে এর সমস্ত আর্থিক শর্ত বুঝে নেওয়াই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।
