হিমালয় দর্শন (গল্প) বেগম রােকেয়া - নবম শ্রেণীর বাংলা প্রশ্ন ও উত্তর - নবম শ্রেণীর বাংলা প্রশ্ন ও উত্তর | WBBSE Class 9th Bengali Himalaya Darshan Question and Answer
হিমালয় দর্শন (গল্প) বেগম রােকেয়া - নবম শ্রেণীর বাংলা প্রশ্ন ও উত্তর - নবম শ্রেণীর বাংলা প্রশ্ন ও উত্তর | WBBSE Class 9th Bengali Himalaya Darshan Question and Answer : WBBSE Class 9th Bengali Himalaya Darshan Question and Answer | West Bengal Class 9th Bengali Himalaya Darshan Suggestion | নবম শ্রেণীর বাংলা হিমালয় দর্শন (গল্প) বেগম রােকেয়া - নবম শ্রেণীর বাংলা প্রশ্ন ও উত্তর (West Bengal Class 9th Bengali Himalaya Darshan Question and Answer) নীচে দেওয়া হলো। এই পশ্চিমবঙ্গ নবম শ্রেণীর বাংলা সাজেশন এর হিমালয় দর্শন (গল্প) বেগম রােকেয়া - নবম শ্রেণীর বাংলা প্রশ্ন ও উত্তর প্রশ্নগুলি খুবই গুরুত্বপূর্ণ।
হিমালয় দর্শন (গল্প) বেগম রােকেয়া - নবম শ্রেণীর বাংলা প্রশ্ন ও উত্তর | West Bengal WBBSE Class 9th Bengali Himalaya Darshan Question and Answer
MCQ | হিমালয় দর্শন (গল্প) বেগম রােকেয়া - নবম শ্রেণীর বাংলা প্রশ্ন ও উত্তর | WB Class 9 Bengali Himalaya Darshan MCQ Question and Answer :
১. নিম্ন উপত্যকায় নির্মল শ্বেত কুজ্ঝটিকা দেখে সাহসা কি বলে মনে হচ্ছিল?
(A) আকাশ
(B) জলাশয়
(C) সমুদ্র
(D) নদী
উত্তরঃ নদী।
২. কারসিয়ং স্টেশন এর উচ্চতা কত?
(A) ৪৭৬৪ ফুট
(B) ৪৮৬৪ফুট
(C) ৪৯৬৪ ফুট
(C) ৪৫৬৪ ফুট
উত্তরঃ ৪৮৬৪ ফুট।
৩. ট্রাঙ্ক কয়টা কোন ঠিকানায় বুক করা হয়েছিল?
(A) দার্জিলিং
(B) নিউ জলপাইগুড়ি
(C) আলিপুরদুয়ার
(D) কালিম্পং
উত্তরঃ দার্জিলিং।
৪. লেখিকা গৃহ সুখ অনুভব করতে পারেন নি কেন?
(A) জিনিসপত্রের অভাবে
(B) আবহাওয়া ভালো ছিল না
(C) জামা কাপড়ের অভাব ছিল বলে
(D) থাকবার ভালো ব্যবস্থা ছিলনা
উত্তরঃ জিনিসপত্রের অভাবে।
৫. কারসিয়ং যাওয়ার পর কত দিন বৃষ্টি হয়েছিল?
(A) একদিন
(B) পাঁচ দিন
(C) দুইদিন
(D) তিনদিন
উত্তরঃ একদিন।
৬. লেখিকা কারসিয়ং এ কোথাকার জল ব্যবহার করতেন?
(A) পুষ্পরাণীর জল
(B) নদীর জল
(C) কূপের জল
(D) নির্ঝরের জল
উত্তরঃ নির্ঝরের জল।
৭. লেখিকা পানীয় জল কিভাবে ব্যবহার করতেন?
(A) গরম করে ছেঁকে খেতেন
(B) ফিল্টারে ছাঁকিয়ে খেতেন
(C) ফুঁটিয়ে খেতেন
(D) কোন কিছুই করতেন না
উত্তরঃ ফিল্টারে ছাঁকিয়ে খেতেন।
৮. 'একবার 'মহিলা'য় ঢেঁকি শাকের কথা পাঠ করিয়াছি'- 'মহিলা' বলতে লেখিকা কি বুঝিয়েছেন?
(A) পত্রিকার নাম
(B) উপন্যাসের নাম
(C) প্রবন্ধের নাম
(D) কাব্যগ্রন্থের নাম
উত্তরঃ পত্রিকার নাম।
৯. 'নির্ভয়ে বেড়াইতে পারি' - নির্ভয় বেড়াতে যাওয়ার কারন কি?
(A) অরণ্য ঘন নয়
(B) বাঘ ভাল্লুক নেই
(C) সাপ নেই
(D) বাঘ নেই
উত্তরঃ বাঘ নেই।
১০. এদেশের স্ত্রীলোকেরা কিসে ভয় পাইনা?
(A) সাপে
(B) জোঁকে
(C) ভালুকে
(D) বাঘে
উত্তরঃ জোঁকে।
১১. ভুটিয়ানিদের পেশা কি?
(A) রাস্তা প্রস্তুত করা
(B) পাথর বহন করা
(C) চাষ করা
(D) কোনোটিই নয়
উত্তরঃ পাথর বহন করা।
১২. 'এখন সে সাধও পূর্ণ হইল' — কোন পূর্ন সাধের কথা বলা হয়েছে?
(A) সমুদ্র দেখার সাধ
(B) পাহাড় দেখার সাধ
(C) নির্ঝর দেখার সাধ
(D) অরণ্য দেখার সাধ
উত্তরঃ পাহাড় দেখার সাধ।।
১৩. ভূটিয়ানিরা কত গজ লম্বা কাপড় ঘাঘরার মতো করে পরত?
(A) চার গজ
(B) পাঁচ গজ
(C) ছয় গজ
(D) সাত গজ
উত্তরঃ (D) সাত গজ।
১৪. “এখন সে সাধও পূর্ণ হইল”- যে সাধের কথা বলা হয়েছে-
(A) পাহাড় দেখার সাধ
(B) সমুদ্র দেখার সাধ
(C) নির্ঝর দেখার সাধ
(D) অরণ্য দেখার সাধ
উত্তরঃ (A) পাহাড় দেখার সাধ।
১৫. কার্সিয়াং এ পানীয় জলের একমাত্র উৎস-
(A) নদী
(B) পৌরসভার জল
(C) নির্ঝরের জল
(D) কুপের জল
উত্তরঃ (C) নির্ঝরের জল
১৬. “এখানে এখন শীতের বৃদ্ধি হয় নাই, গ্রীষ্মও নাই।” – লেখিকা পর্বতের এই সময়কালকে বলেছেন –
(A) গ্রীষ্মকাল
(B) বসন্তকাল
(C) শরৎকাল
(D) শীতকাল
উত্তরঃ (B) বসন্তকাল
১৭. কোন খেলা দেখতে লেখিকার চমৎকার লেগেছিল?
(A) বায়ু ও মেঘের লুকোচুরি খেলা
(B) সুর্যের আলো ও মেঘের লুকোচুরি খেলা
(C) চা বাগানে রোদের লুকোচুরি খেলা
(D) বৃষ্টি ও রোদের আসা – যাওয়া খেলা
উত্তরঃ (A) বায়ু ও মেঘের লুকোচুরি খেলা।
১৮. ‘হিমালয় দর্শন’ নামক রচনাংশে লেখিকার আসবাব সরঞ্জাম ভুল করে যে ঠিকানায় বুক করা হয়েছিল –
(A) ঘুম
(B) দার্জিলিং
(C) কার্সিয়াং
(D) শিলিগুড়ি
উত্তরঃ (B) দার্জিলিং।
১৯. 'হিমালয় দর্শন'-রচনাটি কার লেখা?
(A) তসলিমা নাসরিন
(B) বেগম রোকেয়া
(C) সেলিনা হোসেন
(D) নীলিমা ইব্রাহিম
উত্তরঃ বেগম রোকেয়া।
২০. যথাসময়ে যাত্রা কোরিয়া___ স্টেশনে আসিয়া পঁহুছিলাম।(শূন্যস্থান পূরণ কর)
(A) জলপাইগুড়ি
(B) ধুপগুড়ি
(C) ময়নাগুড়ি
(D) শিলিগুড়ি
উত্তরঃ শিলিগুড়ি।
২১. হিমালয় রেল রোড কোথা থেকে আরম্ভ হয়েছে?
(A) লাটাগুড়ি
(B) পেলিং
(C) শিলিগুড়ি
(D) জলপাইগুড়ি
উত্তরঃ শিলিগুড়ি।
২২. ক্রমে আমরা সমুদ্র হইতে____ হাজার ফিট উচ্চে উঠিয়াছি।
(A) এক
(B) তিন
(C) ছয়
(D) দুই
উত্তরঃ তিন।
২৩. হিমালয় রেল রোড যেখান থেকে শুরু হয়েছে-
(A) দার্জিলিং
(B) শিলিগুড়ি
(C) কার্সিয়াং
(D) কালিম্পং
উত্তরঃ (B) শিলিগুড়ি।
২৪. “ইহার সৌন্দর্য বর্ণনাতীত।” – লেখিকার কাছে যার সৌন্দর্য বর্ণনাতীত, সেটি হল-
(A) হিমালয় রেল রোড
(B) চায়ের ক্ষেত্র
(C) পাহাড়চূড়া
(D) জলপ্রপাত
উত্তরঃ (D) জলপ্রপাত।
২৫. সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে কার্সিয়াং স্টেশনের উচ্চতা-
(A) ৪৫০০ ফিট
(B) ৪৮৬৪ ফিট
(C) ৫৮৬৪ ফিট
(D) ২৮৬৪ ফিট
উত্তরঃ (B) ৪৮৬৪ ফিট।
২৬. “স্টেশন হইতে আমাদের বাসা অধিক দূর নহে”- যে স্টেশনের কথা বলা হয়েছে-
(A) শিলিগুড়ি
(B) দার্জিলিং
(C) ঘুম
(D) কার্সিয়াং
উত্তরঃ (D) কার্সিয়াং।
২৭. ঢেঁকিশাকের কথা যে পত্রিকায় লেখিকা পড়েছিলেন তার নাম হল-
(A) মহিলা
(B) হিতবাদী
(C) সাধনা
(D) ভারতবর্ষ
উত্তরঃ (A) মহিলা।
২৮. বড়ো বড়ো ঢেঁকিতরুর কথা কোন গ্রন্থে পড়েছিলেন লেখিকা?
(A) ভূতত্ত্ব
(B) মহিলা কাব্য
(C) পার্বত্য বিলাস
(D) হিমালয় ভ্রমণ
উত্তরঃ (A) ভূতত্ত্ব গ্রন্থে পড়েছিলেন লেখিকা।
২৯. ঢেঁকি তরুর উচ্চতা-
(A) ১৫-২০ ফুট
(B) ২০-২৫ ফুট
(C) ১০-১৫ ফুট
(D) ২৫-৩০ ফুট
উত্তরঃ (B) ২০-২৫ ফুট।
৩০. এদেশের স্ত্রীলোকেরা কী দেখলে ভয় পায় না?
(A) জোঁক
(B) সাপ
(C) বাঘ
(D) ভালুক
উত্তরঃ (A) জোঁক দেখলে ভয় পায় না।
অতি সংক্ষিপ্ত | হিমালয় দর্শন (গল্প) বেগম রােকেয়া - নবম শ্রেণীর বাংলা প্রশ্ন ও উত্তর | WB Class 9 Bengali Himalaya Darshan SAQ Question and Answer :
১. 'আমাদের মনোরথ পূর্ণ হইল' -কোন মনোরথের কথা বলা হয়েছে?
উত্তরঃ বেগম রকেয়া কার সিয়ং যাওয়ার পথে ট্রেনে চার হাজার ফিট উপরে যখন উঠেছে তখন সেখানে গরমের জ্বালা ছিল না। এখানে গরমের এই জুলুমের কথা বলা হয়েছে।
২. কারসিয়ং স্টেশনের উচ্চতা কত?
উত্তরঃ কারসিয়ং স্টেশনের উচ্চতা ৪৮৬৪ ফিট।
৩. 'গৃহ সুখ অনুভব করিতে পারিনাই' – কেন পারেননি?
উত্তরঃ বেগম রোকেয়ার জিনিসপত্র ভুল করে দার্জিলিং এর ঠিকানায় বুক করায় জিনিসপত্রের অভাবে বাসায় গিয়েও গৃহ সুখ অনুভব করতে পারেননি।
৪. বেগম রোকিয়া জল কিভাবে ব্যবহার করতেন?
উত্তরঃ পানীয় জল ফিল্টারে ছেঁকে ব্যবহার করতেন।
৫. পার্বত্য অঞ্চলের জল দেখতে কেমন?
উত্তরঃ পার্বত্য অঞ্চলের জল দেখতে খুব পরিষ্কার এবং স্বচ্ছ।
৬. জল কোথায় পাওয়া যেত?
উত্তরঃ সেই সময়ে কোথাও কূপ, পুষ্করিণী বা নদী ছিল না, তাই শুধুমাত্র ঝর্ণা থেকে জল পাওয়া যেত।
৭. এখানকার বায়ু কেমন?
উত্তরঃ এখানকার বায়ু পরিষ্কার ও হালকা।
৮. 'সহসা নদী বলিয়া ভ্রম জন্মে' — কি দেখে নদী বলে ভ্রম জন্মেছিল?
উত্তরঃ শিলিগুড়ি থেকে কারসিয়ং যাত্রাপথে নিম্ন উপত্যকায় নির্মল শ্বেতকুজ্ঝটিকা দেখে সহসা নদী বলে বেগম রোকেয়ার ভ্রম হয়েছিল।
৯. লেখিকা বেগম রকেয়া ধরণীর সীমান্ত বলে কাকে মনে করেছেন?
উত্তরঃ কার সিয়ং যাত্রাপথে লেখিকা পথের দুইপাশে হরিদ্বর্ণ চায়ের বাগান দেখেছেন।সেই চায়ের বাগান এর মাঝখান দিয়ে চলে গেছে মানুষের পায়ে হাঁটা সরু রাস্তা। একেই ধরণীর সীমান্ত বলে লেখিকার মনে হয়েছে।
১০. বসুমতির ঘন কেশপাশ-বসুমতি কে? কাকে ঘন কেশপাশ বলা হয়েছে?
উত্তরঃ বসুমতি হল পৃথিবী। নিবিড় শ্যামল বনকে তার ঘন কেশপাশ বলে লেখিকার মনে হয়েছে।
১১. লেখিকা ঢেঁকি শাকের কথা কোথায় পাঠ করেছিলেন?
উত্তরঃ মহিলা পত্রিকায় পাঠ করেছিলেন।
১২. ঢেঁকি শাক সম্পর্কে লেখিকার ধারণা কি ছিল?
উত্তরঃ লেখিকা ঢেঁকি শাক কে ক্ষুদ্র গুল্মু বলেই জানতেন।
১৩. লেখিকা ঢেঁকিতুর সম্পর্কে ভূ-তত্ত্ব গ্রন্থে কী পাঠ করেছিলেন।
উত্তরঃ লেখিকা ভূ-তত্ত্ব গ্রন্থ পাঠ করে জেনেছিলেন কারবনিফেরাস যুগের বড়ো বড়ো ঢেঁকিতুর ছিল।
১৪. লেখিকা কোথায় ঢেঁকিতুর দেখেছিলেন? তার উচ্চতা কত ছিল?
উত্তরঃ লেখিকা কারসিয়ং-এ ঢেঁকিতুর দেখেছিলেন। সেগুলির উচ্চতা ছিল ২০-২৫ ফিট।
১৫. 'নির্ভয়ে বেড়াতে পারি'-নির্ভয় বেড়াইতে পারার কারণ কি?
উত্তরঃ লেখিকাযে অরণ্যে বেড়াইতে বেড়িয়ে ছিলেন সেই অরণ্যে বাঘ ছিল না। তাই তিনি নির্ভয় বেড়াইতে পেরেছিলেন।
১৬. লেখিকার ভুটিয়া চাকরানীর নাম কি?
উত্তরঃ লেখিকার ভুটিয়া চাকরানীর নাম ভালু।
১৭. স্ত্রীলোকেরা কিসে ভয় পাইনা?
উত্তরঃ জোঁক দেখে ভয় পায় না।
১৮. 'পাহাড়নি' কারা?
উত্তরঃ ভুটিয়ানিরা নিজেদের পাহাড়নি পরিচয় দিয়ে থাকেন।
১৯. 'এখন সে সাধও পূর্ণ হইল'-কোন সাধের কথা বলা হয়েছে?
উত্তরঃ লেখিকার পাহাড় দেখবার সাধ ছিল। এখানে এই সাধের কথা বলা হয়েছে।
২০. মন প্রাণ স্বতঃই সমস্বরে বলিয়া উঠে 'ঈশ্বরই প্রশংসার যোগ্য'-কখন মন প্রাণ একথা বলে ওঠে?
উত্তরঃ প্রাকৃতিক সৌন্দর্য দর্শনকালে মন-প্রাণ একথা বলে ওঠে।
২১. কার্সিয়াং এর জলবায়ু কেমন?
উত্তরঃ কার্সিয়াং এর জলবায়ু নাতিশীতোষ্ণ, লেখিকা একে পার্বত্য বসন্তকাল বলে অভিহিত করেছেন।
২২. লেখিকা কোথায় ঢেঁকিশাকের কথা পড়েছিলেন?
উত্তরঃ লেখিকা ‘মহিলা’ পত্রিকায় ঢেঁকিশাকের কথা পড়েছিলেন।
২৩. ঢেঁকিতরুর উচ্চতা কত?
উত্তরঃ ঢেঁকিতরুর উচ্চতা ২০ থেকে ২৫ ফুট উঁচু।
২৪. লেখিকাদের ভূটিয়া চাকরানির নাম কী?
উত্তরঃ লেখিকাদের ভুটিয়া চাকরানীর নাম ছিল ভুলু।
২৫. ভূটিয়ানিদের ঘাঘরার বিশেষত্ব কী ছিল?
উত্তরঃ ভুটিয়ানিরা সাত গজ লম্বা কাপড় ঘাগরার মতো করে পরে, তাদের কোমরে একখণ্ড কাপড় জড়ানো থাকে, গায়ে জ্যাকেট এবং বিলিতি শালে মাথা ঢাকা থাকে।
২৬. ‘মহিলা’ প্ত্রিকার সম্পাদক মেয়েদের সম্পর্কে একবার কী লিখেছিলেন?
উত্তরঃ ‘মহিলা’ পত্রিকার সম্পাদক একবার মহিলাদের সম্পর্কে লিখেছিলেন – ‘রমণীজাতি দুর্বল বলিয়া তাহাদের নাম অবলা’।
২৭. “পুরুষেরা বেশি বোঝা বহন করে না।” – কোন পুরুষদের কথা বলা হয়েছে?
উত্তরঃ এখানে ভুটিয়া পুরুষদের কথা বলা হয়েছে।
২৮. “এখন সে সাধও পূর্ণ হইল।” – কোন সাধ পূর্ণ হল?
উত্তরঃ লেখিকার পর্বত চাক্ষুস দেখার ইচ্ছা বা সাধ ছিল, হিমালয় ভ্রমণে এসে তাঁর সেই সাধ পূর্ণ হয়েছিল।
২৯.. ‘হিমালয় দর্শন’ কার লেখা?
উত্তরঃ ‘হিমালয় দর্শন’ রচনাটি বেগম রোকেয়ার লেখা।
৩০. হিমালয় রেল রোড কোথায় শুরু হয়েছিল?
উত্তরঃ হিমালয় রেলরোড শিলিগুড়ি থেকে শুরু হয়েছিল।
৩১. বেগম রোকেয়া কোন কোন রেলগাড়ির কথা বলেছেন?
উত্তরঃ বেগম রোকেয়া তিন রকম রেলগাড়ির কথা বলেছেন। এগুলি হল ইস্ট ইন্ডিয়ান গাড়ি, ইস্টার্ন বেঙ্গল রেলগাড়ি এবং হিমালয়ান রেলগাড়ি।
৩২. সবচেয়ে ছোট রেল গাড়ির নাম কি?
উত্তরঃ সবচেয়ে ছোট রেলগাড়ির নাম হিমালয়ান রেলগাড়ি।
৩৩. রেলগাড়ি গুলি দেখতে কেমন?
উত্তরঃ রেলগাড়ি গুলি দেখতে ছোট খেলনা গাড়ি মতো। গাড়ি গুলি খুব নিচু। ইচ্ছা করলেই লোক চলন্ত গাড়িতে ওঠা নামা করতে পারে।
৩৪. হিমালয় রেল রোড কোথা থেকে আরম্ভ হয়েছে?
উত্তরঃ শিলিগুড়ি থেকে হিমালয় রেল রোড আরম্ভ হয়েছে।
৩৫. “পথের দুইধারে মনোরম দৃশ্য” – মনোরম দৃশ্যটি কী?
উত্তরঃ পথের দুইধারে মনোরম দৃশ্য বলতে রেলপথের দুইপাশে উচ্চ চুড়া বা নিবির অরণ্য প্রভৃতি প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের কথা বলা হয়েছে।
৩৬. “মেঘের ভিতর দিয়া চলিয়াছি।” কখন লেখিকা মেঘের ভিতর দিয়ে চলেছেন?
উত্তরঃ শিলিগুড়ি থেকে কারসিয়াং রেলপথে যাবার সময় লেখিকার মনে হয়েছিল যে তিনি মেঘের মধ্যে দিয়ে চলেছেন।
৩৭. “সহসা নদী বলিয়া ভ্রম জন্মে।” – কী দেখে নদী বলে ভুল হয়?
উত্তরঃ নীচের উপত্যকায় শ্বেত কুজ্ঝটিকা বা কুয়াশা দেখে লেখিকার নদী বলে ভুল হয়েছিল।
৩৮. “ধরণীর সীমন্তের ন্যায় দেখায়!”- কাকে ধরণির সীমন্তের মতো দেখায়?
উত্তরঃ নীচের উপত্যকায় মানুষের অথ চলার আঁকা বাঁকা পথ ধরণীর সীমন্তের মতো মনে হয়।
৩৯. সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে কার্সিয়াং এর উচ্চতা কত?
উত্তরঃ সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে কার্সিয়াং এর উচ্চতা চার হাজার ফিট।
৪০. “গৃহসুখ অনুভব করিতে পারি নাই।” – লেখিকা বাসায় এসেও গৃহসুখ অনুভব ক্রতে পারছিলেন না কেন?
উত্তরঃ লেখিকা এবং তাঁর সঙ্গীদের মালপত্র ও আসবাবপত্র ভুল ঠিকানায় পৌঁছে যাবার জন্য, কারসিয়াং পৌঁছেও তারা গৃহসুখ থেকে বঞ্চিত হয়েছিলেন।
সংক্ষিত বা ব্যাখ্যাভিত্তিক | হিমালয় দর্শন (গল্প) বেগম রােকেয়া - নবম শ্রেণীর বাংলা প্রশ্ন ও উত্তর | WB Class 9 Bengali Himalaya Darshan Question and Answer :
১. ‘হিমালয় দর্শন’ রচনা অনুসারে কার্সিয়াং–এর আবহাওয়ার পরিচয় দাও। সেখানকার জল কেমন ?
উত্তরঃ ‘হিমালয় দর্শন’ রচনায় লেখিকা কার্সিয়াং–এর আবহাওয়ার পরিচয় দিয়েছেন। ৪৮৬৪ ফিট উপরে কার্শিয়াং শহর। শৈল শহর হলেও তখন লেখিকার শীত অনুভব হয়নি। যদিও গরমের জ্বালা তখন আর ছিল না। সে তো ছিল না, গরমও পড়েনি। অনেকটা বসন্তকালের মতো আবহাওয়া। শীতের বৃষ্টিও তখন শুরু হয়নি। লেখিকা জানিয়েছেন কার্শিয়াং-এ পৌঁছবার পর মাত্র একদিন বৃষ্টি হয়েছিল। সেখানকার বায়ু পরিষ্কার ও হালকা। এই বায়ু স্বাস্থ্যকরও বটে।
লেখিকার মতে সেখানকার জল নাকি খুব ভালো নয়। তাই তারা পানীয় জল ফিল্টারের থেকে ব্যবহার করতেন। জল ভালো না হলেও দেখতে খুব পরিষ্কার এবং স্বচ্ছ। ঝরনা ছাড়া কূপ, নদী বা পুষ্করণী থেকে জল পাওয়া যায় না। কাজেই ঝর্ণা থেকে জল সংগ্রহ করে এনে তার থেকেই ব্যবহার করতে হতো।
২. “যে কারণেই ট্রেন থামুক- আমাদের মনোরথ পূর্ণ হইল।” কোথায় কোন্ ট্রেন, কী কারণে থেমেছিল? বক্তা ও তার সঙ্গীদের মনোরথ কীভাবে পূর্ণ হল?
উত্তরঃ উত্তরঃ আলোচ্য উক্তিটি বেগম রোকেয়া রচিত হিমালয় দর্শন গদ্যাংশের অন্তর্গত। আলোচ্য গদ্যাংশে লেখিকা এবং তাঁর সঙ্গীরা হিমালয়ান রেলগাড়িতে শিলিগুড়ি থেকে কারসিয়াং যাচ্ছিলেন।
পথে ট্রেন একটি পাহাড়ি ঝর্নার সামনে সাময়িক বিরতি নেয়। লেখিকারা ভাবেন যে তারা যাতে ভালোভাবে ঝর্নার শোভা উপভোগ করতে পারেন তাই হয়তো ট্রেন থেমেছে। কিন্তু পরে তারা বুঝতে পারেন যে ট্রেন জল পরিবর্তন করার জন্য বিরতি নিয়েছিল। তবে যে কারনেই ট্রেন থামুক, লেখিকারা জলপ্রপাতের সৌন্দর্য প্রাণভরে উপভোগ করেছিলেন।
৩. ‘ইহার সৌন্দর্য বর্ণনাতীত।’ – কোন সৌন্দর্যকে লেখিকা ‘বর্ণনাতীত’ বলেছেন?
উত্তরঃ আলচ্য উক্তিটি বেগম রোকেয়া রচিত ‘হিমালয় দর্শন’ গদ্যাংশের অন্তর্গত। লেখিকা পাহাড়ি রেলপথে কারসিয়াং চলেছেন। পথে অনেকগুলি জলপ্রপাত দেখতে পান লেখিকা। ভীষণবেগে নেমে আসা জলধারা পৃথিবীর বুক ভিজিয়ে কোথায় চলে যাচ্ছে; এই ভেবে লেখিকা আশ্চর্য হন। লেখিকা এই জলপ্রপাত সৌন্দর্যকে বর্ণনাতীত বলেছেন।
৪. “কেবল আশ্রয় পাইলে সুখে গৃহে থাকা হয় না” — বক্তার এরকম মনোভাবের কারণ কি?
উত্তরঃ হিমালয় দর্শন রচনা অনুসারে লেখিকা শিলিগুড়িতে নেমে ট্রেন পথে কার্শিয়াং এর উদ্দেশ্যে রওনা দিয়েছিলেন। সন্ধ্যার আগেই কার্শিয়াং এর নিকটবর্তী বাসায় তিনি পৌঁছে গেছিলেন। কিন্তু এই দীর্ঘ পথ অতিক্রম করেও বাসায় পৌঁছে গৃহসুখ পেলেন না। আসলে তার জিনিসপত্র বোঝাই করা ট্রাঙ্ক ভুল করে দার্জিলিং এর ঠিকানায় বুক করা হয়েছিল। দার্জিলিং ঘুড়ে সেসব ট্রাঙ্ক ফিরে আসতে সময় লেগেছিল অনেক। ফলে পরের দিন জিনিসপত্র ব্যবহার করতে পেরেছিলেন। জিনিসপত্রের অভাবেই তিনি বুঝেছিলেন শুধুমাত্র আশ্রয় থাকলেই হয় না, ব্যবহারের উপযোগী জিনিসপত্র না থাকলে কোনো আশ্রয়কেই গৃহ বলে ভাবা যায় না আশ্রয়ের সঙ্গে আসবাব সরঞ্জামও চাই।
৫. “সাধ তো মিটে নাই” — কোন সাধ কি কারণে মেটেনি?
উত্তরঃ ‘হিমালয় দর্শন’ রচনা থেকে আমরা জানতে পারি লেখিকার সাধ ছিল পাহাড় দেখবেন। কার্শিয়াং এসে সে ইচ্ছা পূরণ হয়েছে। কিন্তু তাতেও লেখিকার সাধ মেটেনি। আসলে পাহাড়ের সৌন্দর্য, ঝরনার অনিন্দ্যসুন্দর রূপ তাকে মুগ্ধ করেছে। যতই দেখেছেন ততই তার দেখার ইচ্ছা শতগুনে বেড়ে গেছে। বারবারই মনে হয়েছে যদি দুটি চোখের বদলে আরো অনেকগুলি চোখ তার থাকতো তবে সে সাধ মিটতো। অর্থাৎ যতই দেখেছেন ততই লেখিকার মনে অতৃপ্তি বেড়ে গেছে। তাই তিনি বলেছেন ‘সাধ তো মিটে নাই’।
৬. হিমালয়ের নারী সমাজের প্রতি লেখিকার মনোভাব পাঠ্যাংশে যেভাবে প্রকাশিত হয়েছে, তার পরিচয় দাও।
উত্তরঃ ‘হিমালয় দর্শন’ গদ্যাংশের লেখিকা বেগম রোকেয়া বাংলার একজন অগ্রগণ্য নারী সংস্কারক। আলোচ্য গদ্যাংশে লেখিকা পাহাড়ি শহরে বেড়াতে এসেছেন। এখানে এসে তিনি পরিচিত হয়েছেন ‘ভুটিয়া চাকরানী’ ভালুর সাথে। এই কষ্টসহিষ্ণু ভুটিয়া মহিলার প্রসঙ্গে লেখিকা হিমালয়ের নারী সমাজের কথা উত্থাপন করেছেন।
তিনি সমতলের পুরুষদের প্রশ্ন করেছেন যে যারা সমতলের নারীদের অবলা বলে মনে করেন তার কি পাহাড়ি মহিলাদেরও অবলা বলবেন? কারণ, পাহাড়ি নারীরা উদরান্নের জন্য পুরুষদের মুখাপেক্ষি নয়, যারা পুরুষদের অধিক পাথর বয়ে নিয়ে যেতে সক্ষম, নারীরা পুরুদের সমান উপার্জনে সক্ষম। লেখিকার ভাষায় হিমালয়ের নারী সমাজ ‘শ্রমশীলা, সাহসি ও সত্যবাদী’।
৭. “পরদিন হইতে আমরা সম্পূর্ণ গৃহসুখে আছি।” – কি প্রসঙ্গে এই উক্তিটি করা হয়েছে?
উত্তরঃ আলোচ্য উক্তিটি বেগম রোকেয়া রচিত হিমালয় দর্শন গদ্যাংশের অন্তর্গত। এই গদ্যাংশে লেখিকা জানিয়েছেন যে তারা ভ্রমণের উদ্দেশ্যে সমতল থেকে পাহাড়ি শহর কারসিয়ং-এ পৌঁছেছেন।
কারসিয়ং রেলস্টেশনের অনতি দূরে তাদের বাসস্থানে পৌঁছে, লেখিকা আবিষ্কার করেন যে তাদের জরুরী জিনিষপত্র ভুলবশত দার্জিলিং চলে গেছে। নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিষপত্র সম্বলিত ট্র্যাঙ্কগুলি সন্ধ্যেবেলা লেখিকাদের বাসভবনে পৌঁছায়। তাই প্রথমদিন নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিষপত্রের অভাবে গৃহসুখ থেকে সাময়িকভাবে বঞ্চিত থাকেলও, পরদিন থেকে তারা গৃহের সম্পূর্ণ আনন্দ উপভোগ করেছিলেন।
৮. ‘সে জুলুম হইতে রক্ষা পাইলাম।’ – কোন্ জুলুম থেকে লেখিকা রক্ষা পেয়েছেন?
উত্তরঃ লেখিকা বেগম রোকেয়া এখানে জুলুম বলতে গরমের কষ্টের কথা বলেছেন। লেখিকা তাঁর ‘হিমালয় দর্শন’ গদ্যাংশে তাঁর হিমালয় ভ্রমণের বর্ণনা দিয়েছেন। তিনি সমতলের বাসিন্দা, তিনি সমতল থেকে যখন চার হাজার ফিট উচ্চতায় পৌঁছালেন তখন তিনি প্রবল শৈত্য অনুভব না করলেও, পাহাড়ি মনোরম আবহাওয়ায় সমতলের তীব্র গরমের হাত থেকে রক্ষা পেয়েছিলেন। লেখিকা একেই জুলুমের হাত থেকে রক্ষা পাওয়া বলেছেন।
বিশ্লেষণধর্মী ও রচনাধর্মী | হিমালয় দর্শন (গল্প) বেগম রােকেয়া - নবম শ্রেণীর বাংলা প্রশ্ন ও উত্তর | WB Class 9 Bengali Himalaya Darshan Question and Answer :
১. হিমালয় দর্শনে বেরিয়ে বেগম রোকিয়া যে স্থানীয় জনজীবনের পরিচয় পেয়েছিলেন তার বর্ণনা দাও।
উত্তরঃ লেখিকা হিমালয় দর্শণে এসে সেখানকার সাধারণ মানুষের সঙ্গস্পর্শে এসেছিলেন। কারসিয়ং-এর নিকটবর্তী ওই অঞ্জলে ভুটিয়াদের বাস। বেগম রোকেয়াদের যিনি দেখাশোনা করতেন, সেই কাজের মহিলাটিও ভুটিয়া, নাম ভালু। এখানকার মেয়েরা বেশ সাহসী, তাই জোঁক দেখলে ওরা ভয় পায় না। ওরা জানে জোঁক রক্ত চুষে খান তবে খাওয়া শেষ হলে চলেও যাবে। ভুটিয়া স্ত্রীলোকদের লেখিকা ভুটিয়ানি বলেছেন। ভুটিয়ানিরা সাত গজ লম্বা কাপড় ঘাখরার মতো করে পরে। কোমরে একখণ্ড কাপড়ও জড়ানো থাকে। গায়ে দেয় জ্যাকেট আর বিলিতি শালে মাথা ঢেকে রাখে। এরা খুবই পরিশ্রমী হয়। এক মণ বোঝা নিয়ে অনায়াসে পাহাড়ে ওঠানামা করতে পারে। লেখিকা বলেছেন, “যে পথ দেখিয়াই আমাদের সাহস 'গায়েব' হয় — সেই পথে উহারা বোঝা লইয়া অবলীলাক্রমে উঠে।” ভুটিয়ানিরা স্বনির্ভরশীল। উদরান্নের জন্য পুরুষের মুখাপেক্ষী নয়। আবার পরিশ্রমের দিক থেকে এরা পুরুষদের তুলনায় অনেকবেশি এগিয়ে। এরা পাথর বহন করে নিয়ে চলে। কিন্তু পুরুষ সেই পাথর দিয়ে বসে বসে রাস্তা নির্মাণ করে। তবু তারাই সবল হিসাবে সমাজে পরিচিত।
ভুটিয়ানিরা নিজেদের “পাহাড়নি” বলে পরিচয় দেয়। কিন্তু নিন্ন অঞ্লের মানুষদের বলে “নীচকা আদমি'। তাদের চোখে এই নীচকা আদমি যথার্থ অর্থেই নীচ। তারা তাদের চোখে অসভ্য। এই অঞ্চলের মানুষ বিশেষত মেয়েরা শ্রমশীলা, সাহসী ও সত্যবাদী হলেও নীচকা আদমির সঙ্গে সংস্রবের ফলে তাদের এই সৎ চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য অনেকটাই নষ্ট হচ্ছে বলে লেখিকা মনে করেন।
২. লেখিকা বেগম রোকেয়ার লেখা ‘হিমালয় দর্শন’ রচনার ভ্রমণবৃত্তান্ত অনুসরণে পাহাড়ের প্রকৃতির বর্ণনা কর।
উত্তরঃ সুখ্যাত লেখিকা বেগম রোকেয়ার ‘হিমালয় দর্শন’ রচনায় পাহাড়ের সৌন্দর্যে মুগ্ধ হয়েছেন। লেখিকাদের শিলিগুড়ি রেলস্টেশন থেকে কারসিয়াং পর্যন্ত হিমালয়ান রেলগাড়িতে ভ্রমণবৃত্তান্ত বর্ণিত হয়েছে। তিনি লিখেছেন, ‘পথের দুই ধারে মনোরম দৃশ্য — কোথাও অতি উচ্চ চূড়া, কোথাও নিবিড় অরণ্য’ পার্বত্য অঞ্চলে অরণ্য প্রকৃতির বিশেষ ভূমিকা আছে।ভ্রমণযাত্রী লেখিকার চোখে ‘তরু, লতা, ঘাস, পাতা, সকলই মনোহর। নিবিড় শ্যামল বন যেন ধরিত্রীর কেশপাশ, আর তার মাঝ দিয়ে পায়ে হাঁটা পথ যেন আঁকাবাঁকা সিঁথি।
কারসিয়াং-এ থাকার এ সময় প্রকৃতির সঙ্গে লেখিকার সরাসরি পরিচয় হয়। বাতাস আর মেঘের লুকোচুরি খেলা দেখতে চমৎকার লাগে। অস্তগামী সূর্য বাতাস আর মেঘ নিয়ে অতি মনোহর সৌন্দর্যের রাজ্য গড়ে তোলে। অস্তমান সূর্য পশ্চিম আকাশের গায়ে পাহাড়ে যেন তরল সোনা ঢেলে দেয়। মেঘগুলি গায়ে সেই সোনা রং মেখে এখানে-ওখানে ছোটাছুটি করতে থাকে। ২০/২৫ ফুট উঁচু ঢেঁকি গাছ দেখে তাঁর ভারী আনন্দ হয়। কারসিয়াংএর কোনো কোনো জায়গায় খুব ঘন বন দেখেন। বনে বেড়ানো ছিল বেশ নির্ভয়। কারণ ওই বনে বাঘ নেই। লেখিকা পাহাড়, ঝর্ণা, শ্যামল প্রকৃতির রূপে এতটাই বিভোর হয়ে যান যে তার স্রষ্টার কথা মনে পড়ে। তার মনে হয় যে মহা শিল্পী এত চমৎকার চিত্র অঙ্কন করতে পারেন তার নৈপুণ্য কল্পনাতীত।
৩. ‘হিমালয় দর্শন’ অনুসরণে শিলিগুড়ি থেকে কারসিয়ং যাত্রাপথের বর্ণনা দাও।
উত্তরঃ বেগম রোকেয়ার রচিত ‘হিমালয় দর্শন’ রচনা থেকে জানতে পারি যে তিনি দার্জিলিং চলেছেন। এখানে তিনি শিলিগুড়ি থেকে কারসিয়াং যাত্রাপথের অপরূপ বর্ননা দিয়েছেন। শিলিগুড়ি থেকে হিমালয়ান রেলগাড়িতে চেপে কারসিয়ং রওনা হয়েছিলেন লেখিকা। গাড়িগুলো খেলনা গাড়ির মতো বেশ ছোটো আর নীচু। ইচ্ছে করলেই চলম্ত গাড়িতে ওঠানামা করা যায়। ‘কটাটটা' শব্দ করতে করতে গাড়ি উপরের দিকে উঠতে শুরু করল। পথের দুদিকে মনোরম দৃশ্য, কোথাও পাহাড়ের উঁচু চূড়া উঠে গেছে উপরে, কোথাও নিবিড় অরণ্য। দেখতে দেখতে তিন হাজার ফিট উপরে উঠে এসেছেন। মনে হচ্ছে যেন মেঘরাজ্যের ভেতর দিয়ে চলেছেন। নীচের উপত্যকা সাদা কুয়াশায় ভরে গেছে। মনে হয় যেন এক নদী বয়ে চলেছে। দুপাশে অজানা অচেনা লতা, ঘাস, পাতা — সবই মনোহর। মাঝে মাঝে হরিদ্বর্ণ চায়ের ক্ষেত্রগুলি প্রাকৃতিক শোভাকে আরও বাড়িয়ে তুলেছে। খেতের মাঝে মাঝে মানুষের পায়ে হাঁটা সবু রাস্তাগুলোকে দেখে লেখিকার মনে হয়েছে ওগুলো যেন ধরণীর সীমন্তরেখা। নিবিড় শ্যামল বনকে মনে হয়েছে বসুমতীর ঘন কেশপাশ, যাত্রাপথে অনেকগুলি জলপ্রপাত পড়েছিল। অসাধারণ তাদের সৌন্দর্য। কোথা থেকে নেমে এসে ভয়ংকর গতিতে পাহাড়ের পাথরের বুক চিরে তারা গড়িয়ে পড়ছে নীচে। জলপ্রপাত দেখার ইচ্ছে ছিল লেখিকার। সৌভাগ্যক্রমে একটি জলপ্রপাতের কাছেই ট্রেনটি থেমেছিল। লেখিকা মন ভরে তার শোভা পর্যবেক্ষণ করেন। এভাবেই তিনি পাহাড়ের মায়াবী রাজ্যের মধ্যে দিয়ে নিজের গন্তুব্যস্থলে পৌঁছান।
নবম শ্রেণীর সাজেশন | WBBSE Class 5 Suggestion
Class 5 Bengali Suggestion Click Here
Class 5 English Suggestion Click Here
Class 5 Geography Suggestion Click Here
Class 5 History Suggestion Click Here
Class 5 Science Suggestion Click Here
Class 5 Mathematics Suggestion Click Here
হিমালয় দর্শন (গল্প) বেগম রােকেয়া - নবম শ্রেণীর বাংলা প্রশ্ন ও উত্তর - নবম শ্রেণীর বাংলা প্রশ্ন ও উত্তর | WBBSE Class 9th Bengali Himalaya Darshan Question and Answer | এখন বাংলা - Ekhon Bangla
আশা করি এই পোস্টটি বা " হিমালয় দর্শন (গল্প) বেগম রােকেয়া - নবম শ্রেণীর বাংলা প্রশ্ন ও উত্তর - নবম শ্রেণীর বাংলা প্রশ্ন ও উত্তর | WBBSE Class 9th Bengali Himalaya Darshan Question and Answer " এখন বাংলা - Ekhon Bangla থেকে আপনি উপকৃত হবেন। প্রতিদিন সব খবর সবার আগে জানতে এখন বাংলা বা www.ekhonbangla.in ওয়েবসাইট দেখুন অথবা আমাদের Google News এ (Follow Us) ফলো করুন এবং আমাদের Telegram Channel Follow, WhatsApp Channel Follow করুন, ধন্যবাদ।
